জ্বরের এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম

  

জ্বর আমাদের শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া। শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো সংক্রমণ প্রবেশ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তারই একটি

 লক্ষণ হলো জ্বর। অনেকেই জ্বর হলেই এন্টিবায়োটিক খেতে শুরু করেন, কিন্তু সব জ্বরের ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। বরং ভুলভাবে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে ওষুধ কাজ না করার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এই লেখায় আমরা জ্বরের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেটের নাম, সেগুলোর কাজ, কখন প্রয়োজন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং সতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো 

পেজসূচি পএ : জ্বরের এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম 

জ্বর কী এবং কেন হয়?

জ্বর সাধারণত তখনই হয় যখন শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৬°F (৩৭°C) এর উপরে উঠে যায়। সংক্রমণ, প্রদাহ, ডিহাইড্রেশন, টিকাদান, এমনকি কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণেও জ্বর হতে পারে।

জ্বরের সাধারণ কারণসমূহ:

  • ভাইরাল ইনফেকশন (সর্দি, ফ্লু)

  • ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (টাইফয়েড, নিউমোনিয়া)

  • মূত্রনালীর সংক্রমণ

  • টনসিল বা গলা সংক্রমণ

  • ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ভাইরাসজনিত জ্বরে এন্টিবায়োটিক কাজ করে না। এন্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে কার্যকর।

এন্টিবায়োটিক কী?

এন্টিবায়োটিক হলো এমন ওষুধ যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে বা তাদের বৃদ্ধি বন্ধ করে। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয়। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করা উচিত নয়।

আরো পড়ুন : কিডনি রোগের লক্ষণ

জ্বরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিছু সাধারণ এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেটের নাম

নিচে জ্বরের ব্যাকটেরিয়াল কারণের জন্য ব্যবহৃত কিছু পরিচিত এন্টিবায়োটিকের নাম দেওয়া হলো:

১. Amoxicillin

ব্যবহার: গলা সংক্রমণ, কানের ইনফেকশন, নিউমোনিয়া ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
ডোজ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, অ্যালার্জি।

২. Azithromycin

ব্যবহার: শ্বাসনালীর সংক্রমণ, টাইফয়েড, ত্বকের সংক্রমণ।
বিশেষত্ব: দিনে একবার খাওয়া হয় এবং সাধারণত ৩–৫ দিনের কোর্স।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া।

৩. Cefixime

ব্যবহার: টাইফয়েড জ্বর, ইউরিন ইনফেকশন, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ডায়রিয়া, ত্বকে র‍্যাশ।

৪. Ciprofloxacin

ব্যবহার: টাইফয়েড, মূত্রনালীর সংক্রমণ।
সতর্কতা: শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

৫. Doxycycline

ব্যবহার: ডেঙ্গুর সেকেন্ডারি ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, কিছু বিশেষ ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: সূর্যালোকে ত্বকের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি।

ভাইরাল জ্বর বনাম ব্যাকটেরিয়াল জ্বর

ভাইরাল জ্বর:

  • সাধারণ সর্দি-কাশি

  • ফ্লু

  • ডেঙ্গু

চিকিৎসা: বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান, প্যারাসিটামল।
এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না।

ব্যাকটেরিয়াল জ্বর:
  • টাইফয়েড

  • নিউমোনিয়া

  • টনসিলের পুঁজ

চিকিৎসা: সঠিক এন্টিবায়োটিক।

টাইফয়েড জ্বরের ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক

টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ যা সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসকরা প্রায়ই Cefixime বা Azithromycin ব্যবহার করেন।

সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা অত্যন্ত জরুরি, নাহলে সংক্রমণ আবার ফিরে আসতে পারে।


নিউমোনিয়াজনিত জ্বরে এন্টিবায়োটিক

নিউমোনিয়া ফুসফুসের একটি গুরুতর সংক্রমণ। এই ক্ষেত্রে Amoxicillin বা Azithromycin ব্যবহৃত হতে পারে।

ভুলভাবে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষতি

১. এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স
২. ভবিষ্যতে ওষুধ কাজ না করা
৩. কিডনি বা লিভারের ক্ষতি
৪. অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া

বিশ্বজুড়ে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এন্টিবায়োটিক গ্রহণের আগে যা জানা জরুরি

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাবেন না

  • নির্ধারিত ডোজ ও সময় মেনে চলুন

  • কোর্স অসম্পূর্ণ রাখবেন না

  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন

শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা

শিশুদের জ্বর হলে আগে কারণ নির্ণয় করা জরুরি। সব শিশুর জ্বরে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। শিশুর বয়স, ওজন ও সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণ করা হয়।

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে

গর্ভাবস্থায় অনেক এন্টিবায়োটিক নিরাপদ নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

জ্বর হলে করণীয়
  • বিশ্রাম নিন

  • প্রচুর পানি পান করুন

  • হালকা খাবার খান

  • তাপমাত্রা নিয়মিত মাপুন

  • প্রয়োজনে প্যারাসিটামল সেবন করুন

কখন দ্রত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
  • জ্বর ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে

  • তীব্র মাথাব্যথা

  • শ্বাসকষ্ট

  • অবিরাম বমি

  • শিশু বা বৃদ্ধ ব্যক্তির জ্বর

জ্বরের এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম ও দাম

জ্বরের জন্য কোন এন্টিবায়োটিক লাগবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে জ্বরের কারণের উপর। ভাইরাল জ্বরে এন্টিবায়োটিক কাজ করে না, কিন্তু টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, টনসিলের পুঁজ, ইউরিন ইনফেকশন ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে চিকিৎসকরা এন্টিবায়োটিক দেন।

নিচে বাংলাদেশে সাধারণভাবে ব্যবহৃত কিছু এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেটের জেনেরিক নাম ও আনুমানিক দাম (ব্র্যান্ড ও কোম্পানি ভেদে ভিন্ন হতে পারে) দেওয়া হলো:

১. Amoxicillin

ব্যবহার: গলা ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ
ডোজ (সাধারণত): 250mg / 500mg
আনুমানিক দাম:

  • 500mg প্রতি ট্যাবলেট ৮–১৫ টাকা

  • ১০ ট্যাবলেটের স্ট্রিপ ৮০–১৫০ টাকা

২. Azithromycin

ব্যবহার: শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, টাইফয়েড
ডোজ: 250mg / 500mg
আনুমানিক দাম:

  • 500mg প্রতি ট্যাবলেট ৩৫–৬০ টাকা

  • ৩ ট্যাবলেটের স্ট্রিপ ১০০–১৮০ টাকা

৩.Cefixime

ব্যবহার: টাইফয়েড, ইউরিন ইনফেকশন
ডোজ: 200mg / 400mg
আনুমানিক দাম:

  • 200mg প্রতি ট্যাবলেট ৩০–৫০ টাকা

  • ১০ ট্যাবলেটের স্ট্রিপ ৩০০–৫০০ টাকা
    ৪. Ciprofloxacin

ব্যবহার: টাইফয়েড, ইউরিন সংক্রমণ
ডোজ: 250mg / 500mg
আনুমানিক দাম:

  • 500mg প্রতি ট্যাবলেট ১২–২৫ টাকা

  • ১০ ট্যাবলেটের স্ট্রিপ ১২০–২৫০ টাকা

৫. Doxycycline

ব্যবহার: কিছু ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, নিউমোনিয়া
ডোজ: 100mg
আনুমানিক দাম:

  • প্রতি ক্যাপসুল ৫–১২ টাকা

  • ১০ ক্যাপসুলের স্ট্রিপ ৫০–১২০ টাকা

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • সব জ্বরে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাওয়া বিপজ্জনক।

  • পূর্ণ কোর্স শেষ না করলে ভবিষ্যতে ওষুধ কাজ নাও করতে পারে (এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স)।

  • শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। 

জ্বরের এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম স্কয়ার

নিচে Square Pharmaceuticals PLC (স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস) দ্বারা বাংলাদেশের বাজারে উৎপাদিত কিছু এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম ও দাম (আনুমানিক) দেওয়া হলো। এগুলো সাধারণত ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়
📌 স্কয়ারের কিছু এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট

1. Suprax (Cefixime)

  • ব্যবহার: বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে (যেমন নিউমোনিয়া, ইউরিন ইনফেকশন ইত্যাদি)। 
    Medexly

  • ধরন: এন্টিবায়োটিক

  • মোটামুটি দাম:

    • 200 mg ট্যাবলেট — প্রায় ৳৩০–৫০ / ট্যাবলেট (ব্র্যান্ড ভিন্ন হলে দাম উঠানামা করে)

    • 10 ট্যাবলেট স্ট্রিপ — প্রায় ৳৩০০–৪৫০ (অনুমান)
      ✳️ দাম ভিন্ন দোকান এবং কোম্পানি অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে।

2. Zimax (Azithromycin)

  • ব্যবহার: শ্বাসনালী, গলা, ত্বক ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে ব্যবহৃত ম্যাক্রোলাইড এন্টিবায়োটিক। 
    Medex+1

  • ধরন: এন্টিবায়োটিক

  • মোটামুটি দাম:

    • 500 mg — ৳৪০ / ট্যাবলেট (প্রায়)

    • 3×6 বা স্ট্রিপ অনুযায়ী মোট দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
      উল্লেখ্য: এখানে দামটি উদাহরণস্বরূপ নেওয়া হয়েছে।

3. Axet (Cefuroxime Axetil)
  • ব্যবহার: শ্বাসনালীর সংক্রমণ, কানের সংক্রমণ ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। 
    Medexly

  • ধরন: এন্টিবায়োটিক

  • মোটামুটি দাম:

    • 250 mg / 500 mg — ব্র্যান্ড ও দোকান অনুসারে ৳৩০–৮০ / ট্যাবলেট (অনুমান)

⚠️ গুরুত্পর্ণ নোট:

  • উপরের ওষুধগুলো ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসা এর জন্য ব্যবহৃত হয় — ভাইরাল জ্বর (যেমন সাধারণ সর্দি–কাশি বা ফ্লু) এর ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নেই।

  • সঠিক ডোজ ও ব্যবহারের পরিমাণ শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে নিন।

  • ভুলভাবে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (দূরপ্রসারি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা) বাড়তে পারে।

বড়দের জ্বরের এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম

জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়—এটি শরীরে সংক্রমণ বা প্রদাহের একটি লক্ষণ। তাই জ্বর হলেই এন্টিবায়োটিক শুরু করা ঠিক নয়। ভাইরাল জ্বর (সর্দি–কাশি, ফ্লু, ডেঙ্গু ইত্যাদি) হলে এন্টিবায়োটিক কাজ করে না। তবে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ (যেমন টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, টনসিলের পুঁজ, ইউরিন ইনফেকশন) হলে চিকিৎসক এন্টিবায়োটিক দেন।

নিচে বড়দের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত কিছু এন্টিবায়োটিকের জেনেরিক নাম, ব্যবহার, সাধারণ ডোজ ও সতর্কতা তুলে ধরা হলো। ডোজ সবসময় রোগের ধরন, ওজন, কিডনি/লিভারের অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

১) Amoxicillin

কোন ক্ষেত্রে: গলা ও কানের সংক্রমণ, সাইনাসাইটিস, হালকা–মাঝারি নিউমোনিয়া।
সাধারণ ডোজ (বড়দের): 500mg দিনে ২–৩ বার; গুরুতর হলে 875mg দিনে ২ বার।
সময়কাল: ৫–১০ দিন (রোগভেদে)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ডায়রিয়া, বমিভাব, ত্বকে র‍্যাশ; পেনিসিলিন অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করা যায় না।

২) Azithromycin

কোন ক্ষেত্রে: শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, কিছু টাইফয়েড কেস, ত্বকের সংক্রমণ।
সাধারণ ডোজ: 500mg দিনে ১ বার, ৩–৫ দিন (কখনও প্রথম দিন 500mg, পরের ৪ দিন 250mg)।
সুবিধা: দিনে একবার—খাওয়া সহজ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: পেটব্যথা, ডায়রিয়া; হার্টের কিছু রোগে সতর্কতা দরকার।

৩) Cefixime

কোন ক্ষেত্রে: টাইফয়েড, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI), কিছু শ্বাসনালীর সংক্রমণ।
সাধারণ ডোজ: 200–400mg দিনে ১–২ বার।
সময়কাল: সাধারণত ৭–১৪ দিন (টাইফয়েডে পূর্ণ কোর্স খুব গুরুত্বপূর্ণ)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ডায়রিয়া, অ্যালার্জি; কিডনি সমস্যায় ডোজ সমন্বয় লাগতে পারে।

৪) Ciprofloxacin

কোন ক্ষেত্রে: টাইফয়েড, ইউরিন ইনফেকশন, কিছু অন্ত্রের সংক্রমণ।
সাধারণ ডোজ: 500mg দিনে ২ বার।
সতর্কতা: টেন্ডন ব্যথা/ফাটা ঝুঁকি; গর্ভবতী ও কিছু রোগীতে এড়ানো হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: মাথা ঘোরা, বমিভাব, ডায়রিয়া।

৫) Doxycycline

কোন ক্ষেত্রে: নিউমোনিয়া, কিছু বিশেষ ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ; নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে।
সাধারণ ডোজ: 100mg দিনে ১–২ বার।
সতর্কতা: খালি পেটে না খাওয়া ভালো; সূর্যের আলোতে ত্বক সংবেদনশীল হতে পারে।
গর্ভাবস্থায়: সাধারণত এড়ানো হয়।

কোন জ্বরে কোন ধরনের এন্টিবায়োটিক লাগতে পারে?

  • টাইফয়েড সন্দেহ (দীর্ঘদিন জ্বর, পেটের সমস্যা): প্রায়ই Cefixime বা Azithromycin ব্যবহৃত হয়।

  • নিউমোনিয়া (জ্বর + কাশি + শ্বাসকষ্ট): Amoxicillin, কখনও Azithromycin

  • UTI (জ্বর + প্রসাবে জ্বালা/ব্যথা): Cefixime বা Ciprofloxacin

চূড়ান্ত নির্বাচন ল্যাব রিপোর্ট (যেমন CBC, ইউরিন টেস্ট, কালচার) ও রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  1. নিজে নিজে এন্টিবায়োটিক শুরু করবেন না।

  2. পূর্ণ কোর্স শেষ করুন। মাঝপথে বন্ধ করলে সংক্রমণ ফিরে আসতে পারে এবং এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়।

  3. অ্যালার্জি ইতিহাস জানান। পেনিসিলিন অ্যালার্জি থাকলে বিকল্প বেছে নিতে হবে।

  4. কিডনি/লিভার রোগ, গর্ভাবস্থা, বয়স্ক রোগী—ডোজ আলাদা হতে পারে।

  5. তীব্র র‍্যাশ, শ্বাসকষ্ট, মুখ–গলা ফুলে গেলে জরুরি চিকিৎসা নিন।

জ্বর হলে সাধারণ করণীয় (এন্টিবায়োটিকের আগে)

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি পান

  • তাপমাত্রা মাপা

  • প্রয়োজনে প্যারাসিটামল (ডোজ চিকিৎসকের পরামর্শে)

  • ৩ দিনের বেশি জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা/শ্বাসকষ্ট/অবিরাম বমি হলে ডাক্তার দেখান

জিম্যাক্স ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

Zimax হলো Azithromycin-এর একটি ব্র্যান্ড। এটি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে (গলা/শ্বাসতন্ত্র, ত্বক, কিছু টাইফয়েড কেস ইত্যাদি) ব্যবহৃত হয়। ভাইরাল জ্বরে এটি কাজ করে না।

সাধারণ খাওয়ার নিয়ম (বড়দের জন্য)

⚠️ চূড়ান্ত ডোজ চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন—রোগ ও ওজন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

  • 500 mg: দিনে ১ বার, সাধারণত ৩–৫ দিন

    • অনেক ক্ষেত্রে ৩ দিন 500 mg।

    • কখনও ১ম দিন 500 mg, পরের ৪ দিন 250 mg (মোট ৫ দিন)।

কখন খাবেন?

  • প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়া ভালো।

  • খাবারের ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে খেলে শোষণ ভালো হয়।

  • পেটের সমস্যা হলে হালকা খাবারের পরে খেতে পারেন (চিকিৎসকের পরামর্শে)।

কোর্স সম্পূর্ণ করুন

  • ভালো লাগলেও পূর্ণ কোর্স শেষ করুন। মাঝপথে বন্ধ করলে সংক্রমণ ফিরে আসতে পারে এবং রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে।

ডোজ মিস হলে

  • মনে পড়ার সাথে সাথে খেয়ে নিন।

  • পরের ডোজের সময় কাছাকাছি হলে ডাবল ডোজ নেবেন না

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • বমিভাব, ডায়রিয়া, পেটব্যথা

  • মাথা ঘোরা

  • ত্বকে র‍্যাশ

  • খুব বিরল ক্ষেত্রে হার্টের রিদমের সমস্যা (যাদের আগে থেকে হার্টের অসুখ আছে তাদের সতর্কতা দরকার)

যাদের সতর্ক থাকতে হবে

  • লিভারের রোগী

  • হার্টের রিদম সমস্যা আছে এমন ব্যক্তি

  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মা (চিকিৎসকের পরামর্শ আবশ্যক)

  • অন্য ওষুধ (বিশেষ করে অ্যান্টাসিড/হার্টের ওষুধ) খেলে—ডাক্তারকে জানান

উপসংহার

জ্বর একটি সাধারণ উপসর্গ হলেও এর পেছনের কারণ ভিন্ন হতে পারে। সব জ্বরের ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে।

AmoxicillinAzithromycinCefiximeCiprofloxacin এবং Doxycycline— এগুলো কিছু পরিচিত এন্টিবায়োটিক, তবে কোনটি প্রয়োজন তা নির্ভর করে রোগের ধরন ও পরীক্ষার ফলাফলের উপর।

নিজের বা পরিবারের সুস্থতার জন্য কখনোই নিজে নিজে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url