কিডনি রোগের লক্ষণ
কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। প্রতিদিন কিডনি প্রায় ৫০ লিটার রক্ত পরিশোধন করে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। শুধু তাই নয়, কিডনি
শরীরের লবণ ও খনিজের ভারসাম্য রক্ষা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিন্তু যখন কিডনি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, তখন ধীরে ধীরে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। কিডনি রোগ অনেক সময় নীরবে অগ্রসর হয়, অর্থাৎ প্রথম দিকে তেমন কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। তাই কিডনি রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
পেজ সূচিপএ : কিডনি রোগের লক্ষণ
কিডনি কী এবং কীভাবে কাজ করে?
মানবদেহে সাধারণত দুটি কিডনি থাকে, যা মেরুদণ্ডের দুই পাশে পাঁজরের নিচে অবস্থিত। কিডনির প্রধান কাজগুলো হলো:
-
রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা
-
অতিরিক্ত পানি বের করে প্রস্রাব তৈরি করা
-
ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা
-
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা
-
হরমোন উৎপাদনে অংশ নেওয়া
যখন এই কাজগুলোর কোনো একটিতে সমস্যা হয়, তখন কিডনি রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।
আরো পড়ুন : নাপা প্যারাসিটামল এর কাজ কি
কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ
কিডনি রোগের শুরুতে অনেক সময় খুব হালকা বা অস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। এগুলো অবহেলা করলে পরবর্তীতে বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
১. প্রস্রাবে পরিবর্তন
কিডনি রোগের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো প্রস্রাবের পরিবর্তন। যেমন—
-
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া
-
রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া
-
ফেনাযুক্ত প্রস্রাব (প্রোটিন লিকের ইঙ্গিত)
-
প্রস্রাবে রক্ত
-
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
বিশেষ করে ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিডনি ক্ষতির প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
২. শরীরে ফোলা (এডিমা)
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে যায়। ফলে—
-
পা ও গোড়ালি ফুলে যায়
-
চোখের নিচে ফোলা দেখা যায়
-
হাত ও মুখমণ্ডলে ফোলা
সকালে ঘুম থেকে উঠেই চোখের নিচে ফোলা থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত।
৩. অতিরিক্ত ক্লান্তি
কিডনি শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। কিডনি দুর্বল হলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়, ফলে—
-
সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে
-
দুর্বলতা অনুভব হয়
-
কাজ করার শক্তি কমে যায়
৪. ক্ষুধামন্দা ও বমিভাব
রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমে গেলে—
-
খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়
-
বমি বমি ভাব
-
মুখে তিতা স্বাদ
অনেক সময় রোগীরা বলেন, খাবার দেখলেই বিরক্ত লাগে।
আরো পড়ুন : নাপা এক্সট্রা এর কাজ কি
৫. ত্বকের চুলকানি
রক্তে টক্সিন জমে গেলে ত্বকে চুলকানি দেখা দেয়। এটি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
কিডনি রোগের গুরুতর লক্ষণ
যদি প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা হয়, তবে ধীরে ধীরে রোগ জটিল আকার ধারণ করে।
১. শ্বাসকষ্ট
শরীরে অতিরিক্ত পানি জমলে ফুসফুসে পানি জমতে পারে। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
২. উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের কারণও হতে পারে, আবার ফলাফলও হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে।
৩. বুকব্যথা
হৃদযন্ত্রের চারপাশে তরল জমে গেলে বুকব্যথা হতে পারে।
৪. মনোযোগ কমে যাওয়া
রক্তে বর্জ্য জমে গেলে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়ে। ফলে—
-
মনোযোগ কমে যায়
-
মাথা ঘোরে
-
বিভ্রান্তি তৈরি হয়
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (Chronic Kidney Disease)
দীর্ঘদিন ধরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে থাকলে তাকে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বলা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে এটি Chronic Kidney Disease নামে পরিচিত।
এই রোগ ধীরে ধীরে বাড়ে এবং অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না।
কিডনি বিকল হওয়া (Kidney Failure)
যখন কিডনি প্রায় সম্পূর্ণ কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন তাকে কিডনি বিকল বলা হয়। একে Kidney Failure বলা হয়।
এই অবস্থায় রোগীকে—
-
ডায়ালাইসিস
অথবা -
কিডনি প্রতিস্থাপন
করতে হয়।
আরো পড়ুন : সোনা পাতা খাওয়ার অপকারিতা
কিডনি রোগের প্রধান কারণ
১. ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় কারণ। উচ্চ রক্তে শর্করা কিডনির ক্ষতি করে। এই রোগটি আন্তর্জাতিকভাবে Diabetes নামে পরিচিত।
২. উচ্চ রক্তচাপ
দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ কিডনির রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি Hypertension নামে পরিচিত।
৩. কিডনি সংক্রমণ
বারবার সংক্রমণ হলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. বংশগত কারণ
পরিবারে কারও কিডনি রোগ থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
৫. অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবন
দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খেলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
-
ডায়াবেটিস রোগী
-
উচ্চ রক্তচাপের রোগী
-
স্থূল ব্যক্তি
-
ধূমপায়ী
-
৬০ বছরের বেশি বয়সী
-
পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে
কিডনি রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা
১. রক্ত পরীক্ষা
-
ক্রিয়েটিনিন
-
ইউরিয়া
২. প্রস্রাব পরীক্ষা
-
প্রোটিন
-
রক্ত
৩. আল্ট্রাসনোগ্রাম
কিডনির গঠন দেখতে করা হয়।
ডায়ালাইসিস কী?
ডায়ালাইসিস হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিষ্কার করা হয়। এটি সাধারণত কিডনি সম্পূর্ণ অকেজো হলে করা হয়।
কিডনি প্রতিস্থাপন
যদি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়, তবে সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়। এটি একটি বড় অস্ত্রোপচার।
আরো পড়ুন : চাপা কষ্টের স্ট্যাটাস
কিডনি রোগ প্রতিরোধের উপায়
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
২. লবণ কম খান
৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে
রাখুন
৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন
৫. ধূমপান ত্যাগ করুন
৬.
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত?
-
কম লবণ
-
কম প্রোটিন (রোগের অবস্থা অনুযায়ী)
-
বেশি শাকসবজি
-
প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ানো
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
-
প্রস্রাবে রক্ত
-
হঠাৎ শরীর ফুলে যাওয়া
-
শ্বাসকষ্ট
-
প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া
-
প্রচণ্ড দুর্বলতা
কিডনি রোগের কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার
কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিদিন কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। পাশাপাশি এটি শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রক্ত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যখন কিডনি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, তখন তাকে কিডনি রোগ বলা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যাকে Chronic Kidney Disease বলা হয়। আর কিডনি সম্পূর্ণভাবে কাজ করা বন্ধ করলে তাকে Kidney Failure বলা হয়।
এখানে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো কিডনি রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার।
কিডনি রোগের প্রধান কারণ
১. ডায়াবেটিস
উচ্চ রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় কারণ। এই রোগটি পরিচিত Diabetes নামে।
২. উচ্চ রক্তচাপ
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কিডনির রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি Hypertension নামে পরিচিত।
৩. কিডনি সংক্রমণ
বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ বা কিডনি সংক্রমণ হলে কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
৪. অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবন
দীর্ঘদিন পেইনকিলার বা ব্যথার ওষুধ খেলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৫. বংশগত কারণ
পরিবারে কিডনি রোগ থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে।
৬. কিডনিতে পাথর
দীর্ঘদিন পাথর থেকে গেলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
৭. অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
ধূমপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
আরো পড়ুন : কাতারের ১ দিরহাম বাংলাদেশের কত টাকা
কিডনি রোগের লক্ষণ
কিডনি রোগের শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে ধীরে ধীরে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে:
১. প্রস্রাবে পরিবর্তন
-
প্রস্রাব কম বা বেশি হওয়া
-
রাতে বারবার প্রস্রাব
-
ফেনাযুক্ত প্রস্রাব
-
প্রস্রাবে রক্ত
-
জ্বালাপোড়া
২. শরীরে ফোলা
-
পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
-
চোখের নিচে ফোলা
-
মুখমণ্ডলে ফোলা
৩. অতিরিক্ত ক্লান্তি
রক্তশূন্যতার কারণে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়।
৪. ক্ষুধামন্দা ও বমিভাব
রক্তে বর্জ্য জমলে খাওয়ার রুচি কমে যায়।
৫. ত্বকের চুলকানি
টক্সিন জমে ত্বকে চুলকানি হতে পারে।
৬. শ্বাসকষ্ট
ফুসফুসে পানি জমলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
৭. উচ্চ রক্তচাপ
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
কিডনি রোগের প্রতিকার ও চিকিৎসা
১. নিয়মিত পরীক্ষা
-
রক্তে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা
-
প্রস্রাব পরীক্ষা
-
আল্ট্রাসনোগ্রাম
২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও নিয়মিত চেকআপ জরুরি।
৪. সঠিক খাদ্যাভ্যাস
-
লবণ কম খান
-
অতিরিক্ত প্রোটিন এড়িয়ে চলুন (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
-
প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান
-
বেশি শাকসবজি খান
৫. পর্যাপ্ত পানি পান
পরিমাণ রোগের অবস্থার উপর নির্ভর করে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৬. ধূমপান ত্যাগ
ধূমপান কিডনির ক্ষতি বাড়ায়।
৭. নিয়মিত ব্যায়াম
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা উপকারী।
৮. ডায়ালাইসিস
কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়।
৯. কিডনি প্রতিস্থাপন
গুরুতর অবস্থায় কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
-
ডায়াবেটিস রোগী
-
উচ্চ রক্তচাপের রোগী
-
স্থূল ব্যক্তি
-
৬০ বছরের বেশি বয়সী
-
পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে
কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?
-
প্রস্রাবে রক্ত
-
হঠাৎ শরীর ফুলে যাওয়া
-
শ্বাসকষ্ট
-
প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া
-
তীব্র দুর্বলতা
কিডনি ইনফেকশনের লক্ষণ
কিডনি ইনফেকশন হলো কিডনিতে হওয়া একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা সাধারণত মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) থেকে ছড়িয়ে কিডনিতে পৌঁছে যায়। চিকিৎসা না করলে এটি কিডনির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে কিডনি ইনফেকশনকে Pyelonephritis বলা হয়।
নিচে কিডনি ইনফেকশনের প্রধান লক্ষণগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
🔴 প্রাথমিক লক্ষণ
১. জ্বর ও কাঁপুনি
হঠাৎ উচ্চ জ্বর (১০১°F বা তার বেশি) হতে পারে। অনেক সময় জ্বরের সঙ্গে ঠান্ডা কাঁপুনি থাকে।
২. কোমরের পাশ বা পিঠে ব্যথা
কিডনি পিঠের দুই পাশে অবস্থিত। সংক্রমণ হলে—
-
পিঠের নিচের অংশে তীব্র ব্যথা
-
এক পাশে বেশি ব্যথা
-
চাপ দিলে ব্যথা বাড়ে
৩. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
-
প্রস্রাবের সময় ব্যথা
-
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
-
অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া
৪. দুর্গন্ধযুক্ত বা ঘোলা প্রস্রাব
-
প্রস্রাবে তীব্র গন্ধ
-
ঘোলা বা পুঁজের মতো দেখাতে পারে
-
কখনও রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব
🔴 গুরুতর লক্ষণ
৫. বমি বমি ভাব ও বমি
সংক্রমণ বাড়লে বমি হতে পারে।
৬. দুর্বলতা ও ক্লান্তি
শরীর ভেঙে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়।
৭. পেটের নিচের অংশে ব্যথা
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে তলপেটে ব্যথা হতে পারে।
৮. মানসিক বিভ্রান্তি (বিশেষত বয়স্কদের ক্ষেত্রে)
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে হঠাৎ বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া দেখা দিতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ
শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে—
-
খাওয়া কমে যাওয়া
-
অকারণে কান্না
-
জ্বর
-
বমি
-
প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
-
নারীরা (মূত্রনালী ছোট হওয়ায়)
-
গর্ভবতী নারী
-
ডায়াবেটিস রোগী
-
কিডনিতে পাথর আছে এমন ব্যক্তি
-
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে—
-
উচ্চ জ্বর ও কাঁপুনি
-
তীব্র পিঠ বা কোমর ব্যথা
-
প্রস্রাবে রক্ত
-
বারবার বমি
-
শ্বাসকষ্ট
কিডনি ইনফেকশন অবহেলা করলে রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) হতে পারে, যা প্রাণঘাতী।
কিডনি ইনফেকশন কেন বিপজ্জনক?
চিকিৎসা না করলে সংক্রমণ ছড়িয়ে—
-
কিডনির স্থায়ী ক্ষতি
-
রক্তে সংক্রমণ
-
কিডনি বিকল
হতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়
✅ পর্যাপ্ত পানি পান করুন
✅ প্রস্রাব চেপে রাখবেন না
✅ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
✅ মূত্রনালীর সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন
✅ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন
কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ
কিডনি ড্যামেজ বা কিডনির ক্ষতি তখন হয় যখন কিডনি ঠিকমতো রক্ত পরিশোধন করতে পারে না। শুরুতে অনেক সময় লক্ষণ খুব স্পষ্ট থাকে না। ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়লে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। দীর্ঘদিন কিডনির ক্ষতি চলতে থাকলে সেটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Chronic Kidney Disease বলা হয়। আর সম্পূর্ণভাবে কাজ বন্ধ হয়ে গেলে তাকে Kidney Failure বলা হয়।
নিচে কিডনি ড্যামেজের প্রধান লক্ষণগুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
আারো পড়ুন : বেক্সট্রাম গোল্ড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
🔹 প্রাথমিক লক্ষণ
১. প্রস্রাবে পরিবর্তন
কিডনি ড্যামেজের প্রথম লক্ষণ সাধারণত প্রস্রাবের মাধ্যমে বোঝা যায়:
-
প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া
-
রাতে বারবার প্রস্রাব
-
ফেনাযুক্ত প্রস্রাব (প্রোটিন লিকের ইঙ্গিত)
-
প্রস্রাবে রক্ত
-
গাঢ় বা ঘোলা প্রস্রাব
২. শরীরে ফোলা (এডিমা)
কিডনি ঠিকমতো অতিরিক্ত পানি বের করতে না পারলে—
-
পা ও গোড়ালি ফুলে যায়
-
চোখের নিচে ফোলা
-
হাত ও মুখমণ্ডলে ফোলা
৩. অতিরিক্ত ক্লান্তি
কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ফলে—
-
সব সময় দুর্বল লাগে
-
কাজ করতে ইচ্ছা করে না
-
মাথা ঘোরে
৪. ক্ষুধামন্দা ও বমিভাব
রক্তে বর্জ্য জমে গেলে—
-
খাওয়ার রুচি কমে যায়
-
বমি বমি ভাব
-
মুখে ধাতব বা তিতা স্বাদ
৫. ত্বকের চুলকানি
রক্তে টক্সিন জমে গেলে ত্বকে চুলকানি ও শুষ্কতা দেখা দেয়।
🔹 গুরুতর লক্ষণ
৬. শ্বাসকষ্ট
শরীরে পানি জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেললে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
৭. উচ্চ রক্তচাপ
অনিয়ন্ত্রিত Hypertension কিডনি ড্যামেজের কারণও হতে পারে, আবার ফলাফলও হতে পারে।
৮. বুকব্যথা
হৃদযন্ত্রের চারপাশে তরল জমলে বুকব্যথা হতে পারে।
৯. মনোযোগ কমে যাওয়া
-
বিভ্রান্তি
-
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
-
অস্বাভাবিক ঘুমভাব
১০. পেশিতে টান বা খিঁচুনি
ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশিতে টান ধরতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
-
ডায়াবেটিস রোগী (বিশেষত Diabetes)
-
উচ্চ রক্তচাপের রোগী
-
স্থূল ব্যক্তি
-
ধূমপায়ী
-
৬০ বছরের বেশি বয়সী
-
পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিন—
-
প্রস্রাবে রক্ত
-
হঠাৎ শরীর ফুলে যাওয়া
-
শ্বাসকষ্ট
-
প্রস্রাব প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া
-
প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
কিডনি রোগের প্রতিকার
কিডনি রোগ একবার শুরু হলে পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে—বিশেষ করে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে সঠিক চিকিৎসা, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও নিয়মিত পরীক্ষা করলে রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং জটিলতা কমানো সম্ভব।
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ক্ষতিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Chronic Kidney Disease বলা হয়। আর কিডনি সম্পূর্ণভাবে কাজ বন্ধ করে দিলে তাকে Kidney Failure বলা হয়।
নিচে কিডনি রোগের কার্যকর প্রতিকারগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
১️⃣ মূল কারণ নিয়ন্ত্রণ করা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
🔹 ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
বিশ্বব্যাপী কিডনি বিকলের প্রধান কারণ Diabetes।
-
নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা
-
ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ/ইনসুলিন
-
মিষ্টি ও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়া
🔹 উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
অনিয়ন্ত্রিত Hypertension কিডনির রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
-
নিয়মিত রক্তচাপ মাপা
-
লবণ কম খাওয়া
-
প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ
২️⃣ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (ডায়েট ম্যানেজমেন্ট)
কিডনি রোগে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
✅ লবণ কম খান
অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমায় ও রক্তচাপ বাড়ায়।
✅ প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির উপর চাপ বাড়ায়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোটিন গ্রহণ করুন।
✅ পটাশিয়াম ও ফসফরাস নিয়ন্ত্রণ
রোগের পর্যায় অনুযায়ী কলা, আলু, টমেটো ইত্যাদি খাবার সীমিত করতে হতে পারে।
✅ প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
ফাস্টফুড, ক্যানজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়ানো উচিত।
৩️⃣ পর্যাপ্ত পানি পান
সাধারণভাবে পর্যাপ্ত পানি পান কিডনির জন্য ভালো। তবে কিডনি রোগের উন্নত পর্যায়ে কতটা পানি খাবেন তা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
৪️⃣ নিয়মিত ব্যায়াম
-
প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা
-
ওজন নিয়ন্ত্রণ
-
মানসিক চাপ কমানো
ব্যায়াম রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৫️⃣ ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
ধূমপান কিডনির রক্তপ্রবাহ কমায় এবং রোগ দ্রুত বাড়ায়। অ্যালকোহলও কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করে।
৬️⃣ অপ্রয়োজনীয় ওষুধ এড়ানো
দীর্ঘদিন ব্যথানাশক বা কিছু অ্যান্টিবায়োটিক সেবন কিডনির ক্ষতি করতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না।
৭️⃣ নিয়মিত পরীক্ষা
-
রক্তে ক্রিয়েটিনিন
-
ইউরিয়া
-
প্রস্রাবে প্রোটিন
-
জিএফআর (GFR)
প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ হয়।
৮️⃣ ডায়ালাইসিস
যখন কিডনি প্রায় কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। এতে মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিষ্কার করা হয়। এটি জীবন রক্ষাকারী পদ্ধতি।
৯️⃣ কিডনি প্রতিস্থাপন
কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হলে সুস্থ দাতার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়।
আরো পড়ুন ; আফরোজা নামের অর্থ কি
ঘরোয়া সচেতনতা
✔ প্রস্রাব চেপে
রাখবেন না
✔ অতিরিক্ত লবণ ও
তেলযুক্ত খাবার
কমান
✔ বছরে অন্তত
একবার স্বাস্থ্য
পরীক্ষা করুন
✔ পরিবারে কিডনি
রোগ থাকলে
নিয়মিত
স্ক্রিনিং করুন
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?
-
প্রস্রাবে রক্ত
-
হঠাৎ শরীর ফুলে যাওয়া
-
শ্বাসকষ্ট
-
প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া
-
প্রচণ্ড দুর্বলতা
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের লক্ষণ
দীর্ঘদিন ধরে কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে গেলে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Chronic Kidney Disease বলা হয়। এটি একটি ধীরগতির কিন্তু গুরুতর রোগ। শুরুতে তেমন লক্ষণ বোঝা যায় না, তাই একে অনেক সময় “নীরব রোগ” বলা হয়।
নিচে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রধান লক্ষণগুলো পর্যায়ভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হলো।
🔹 প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণ (Early Stage)
এই পর্যায়ে লক্ষণ খুব হালকা হতে পারে বা অনেক সময় বোঝাই যায় না।
১️⃣ প্রস্রাবে পরিবর্তন
-
ফেনাযুক্ত প্রস্রাব (প্রোটিন লিকের ইঙ্গিত)
-
প্রস্রাবের পরিমাণ কম বা বেশি হওয়া
-
রাতে বারবার প্রস্রাব
-
প্রস্রাবে হালকা রক্ত
২️⃣ হালকা ফোলা
-
চোখের নিচে ফোলা
-
পা বা গোড়ালিতে সামান্য ফোলা
৩️⃣ দ্রুত ক্লান্তি
-
দুর্বল লাগা
-
কাজের শক্তি কমে যাওয়া
🔹 মাঝারি পর্যায়ের লক্ষণ (Moderate Stage)
রোগ অগ্রসর হলে লক্ষণ স্পষ্ট হতে শুরু করে।
৪️⃣ ক্ষুধামন্দা ও বমিভাব
রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমে গেলে—
-
খাবারে অরুচি
-
বমি বমি ভাব
-
মুখে তিতা বা ধাতব স্বাদ
৫️⃣ ত্বকের চুলকানি
রক্তে টক্সিন জমার কারণে ত্বক শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত হতে পারে।
৬️⃣ উচ্চ রক্তচাপ
অনিয়ন্ত্রিত Hypertension দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের কারণ ও ফলাফল—দুটিই হতে পারে।
৭️⃣ রক্তশূন্যতা
কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্ত তৈরির হরমোন কমে যায়, ফলে—
-
মাথা ঘোরা
-
শ্বাসকষ্ট
-
অতিরিক্ত ক্লান্তি
🔹 গুরুতর পর্যায়ের লক্ষণ (Advanced Stage)
রোগ গুরুতর হলে কিডনির কার্যক্ষমতা খুব কমে যায়।
৮️⃣ শরীরে অতিরিক্ত ফোলা
-
পা, হাত ও মুখ ফুলে যাওয়া
-
পেট ফোলা
৯️⃣ শ্বাসকষ্ট
শরীরে পানি জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে।
🔟 মনোযোগ কমে যাওয়া
-
স্মৃতিশক্তি হ্রাস
-
বিভ্রান্তি
-
অস্বাভাবিক ঘুমভাব
১️⃣১️⃣ পেশিতে টান ও খিঁচুনি
ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশিতে টান ধরতে পারে।
১️⃣২️⃣ প্রস্রাব প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া
এটি গুরুতর সতর্ক সংকেত।
এই অবস্থায় রোগটি Kidney Failure পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
আরো পড়ুন : সুপ্রাভিট এম এর উপকারিতা
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
-
ডায়াবেটিস রোগী (Diabetes)
-
উচ্চ রক্তচাপের রোগী
-
স্থূল ব্যক্তি
-
ধূমপায়ী
-
৬০ বছরের বেশি বয়সী
-
পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে
কখন পরীক্ষা করবেন?
নিম্নলিখিত পরীক্ষা করলে রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়তে পারে:
-
রক্তে ক্রিয়েটিনিন
-
ইউরিয়া
-
জিএফআর (GFR)
-
প্রস্রাবে প্রোটিন
উপসংহার
কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। শুরুতে লক্ষণ খুবই হালকা থাকে, কিন্তু ধীরে ধীরে গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারে। তাই—
-
প্রস্রাবের পরিবর্তন অবহেলা করবেন না
-
ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
-
বছরে অন্তত একবার কিডনি পরীক্ষা করুন
সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষা কিডনি রোগ থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায়।

.jpg)
.jpg)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url