ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ রুট হলো ঢাকা থেকে সিলেট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেট শহর চা-বাগান, পাহাড়, ঝর্ণা এবং ধর্মীয় স্থানের জন্য বিখ্যাত। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঢাকা থেকে

ঢাকা -থেকে -সিলেট -ট্রেনের -সময়সূচী

 সিলেট ভ্রমণ করেন বিভিন্ন কারণে—কেউ পর্যটনের জন্য, কেউ ব্যবসায়িক কাজে, আবার কেউ আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে। এই রুটে ট্রেন ভ্রমণ সবচেয়ে আরামদায়ক এবং নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।এই আর্টিকেলে আমরা ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া, ট্রেনের ধরন, সুবিধা এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবো।

পেজ সূচিপএ : ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী 

ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনের তালিকা

ঢাকা থেকে সিলেট রুটে কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। এই ট্রেনগুলো আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এবং যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক সেবা প্রদান করে।

প্রধান ট্রেনগুলো হলো:

১. পারাবত এক্সপ্রেস

পারাবত এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সিলেট রুটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর একটি। এটি আধুনিক সুবিধা ও নির্ভরযোগ্য সময়সূচীর জন্য পরিচিত।

  • ঢাকা থেকে ছাড়ে: সকাল ৬:২০ মিনিট

  • সিলেটে পৌঁছায়: দুপুর ১:০০ মিনিট

  • সাপ্তাহিক ছুটি: মঙ্গলবার

এই ট্রেনটি দ্রুতগতির হওয়ায় অনেক যাত্রী এটিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন

আরো পড়ুন : কুমিল্লা থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী

২. জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস একটি আরামদায়ক এবং জনপ্রিয় ট্রেন যা দিনে চলাচল করে।

  • ঢাকা থেকে ছাড়ে: দুপুর ১১:১৫ মিনিট

  • সিলেটে পৌঁছায়: সন্ধ্যা ৬:০০ মিনিট

  • সাপ্তাহিক ছুটি: নেই

এই ট্রেনটি দিনের বেলা ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।

৩. উপবন এক্সপ্রেস

উপবন এক্সপ্রেস একটি রাতের ট্রেন যা যাত্রীদের জন্য বেশ সুবিধাজনক।

  • ঢাকা থেকে ছাড়ে: রাত ৯:৫০ মিনিট

  • সিলেটে পৌঁছায়: ভোর ৫:০০ মিনিট

  • সাপ্তাহিক ছুটি: বুধবার

যারা রাতের ভ্রমণ পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি আদর্শ।

৪. কালনী এক্সপ্রেস

কালনী এক্সপ্রেস তুলনামূলক দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য ট্রেন।

  • ঢাকা থেকে ছাড়ে: বিকেল ৩:০০ মিনিট

  • সিলেটে পৌঁছায়: রাত ৯:৩০ মিনিট

  • সাপ্তাহিক ছুটি: শুক্রবার

এটি বিকেলের দিকে যাত্রার জন্য ভালো একটি অপশন।


ঢাকা টু সিলেট পারাবত ট্রেনের সময়সূচী

ঢাকা থেকে সিলেট রুটে চলাচলকারী পারাবত এক্সপ্রেস বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। এটি দ্রুতগামী, আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এই ট্রেনটি ব্যবহার করেন। যারা সকালে যাত্রা শুরু করে দুপুরের মধ্যে সিলেটে পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য এই ট্রেনটি একটি আদর্শ পছন্দ।

পারাবত এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭০৯) ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন সকাল প্রায় ৬:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং সিলেট রেলস্টেশনে পৌঁছায় দুপুর ১:০০ টার দিকে। পুরো যাত্রাপথ অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। 

এই ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলাচল করে এবং সোমবার বন্ধ থাকে। তাই যাত্রার পরিকল্পনা করার আগে অবশ্যই বন্ধের দিনটি মাথায় রাখা উচিত, যাতে ভ্রমণে কোনো সমস্যায় না পড়তে হয়। 

পারাবত এক্সপ্রেসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি কম সংখ্যক স্টেশনে থামে, যার কারণে এটি অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। পথে বিমানবন্দর, ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি দেয়। 


ফিরতি পথে, অর্থাৎ সিলেট থেকে ঢাকায় আসার সময় পারাবত এক্সপ্রেস বিকাল ৪:০০ টায় ছাড়ে এবং রাত ১০:৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। এই সময়সূচীও বেশ সুবিধাজনক, বিশেষ করে যারা সিলেটে দিন কাটিয়ে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরতে চান তাদের জন্য। 
Train Jatri

সব মিলিয়ে, পারাবত এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সিলেট ভ্রমণের জন্য একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং আরামদায়ক ট্রেন। সঠিক সময়সূচী জেনে এবং আগে থেকে টিকিট কেটে নিলে আপনার ভ্রমণ হবে আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত।

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের ভাড়া

ঢাকা থেকে সিলেট রুটে ট্রেন ভ্রমণ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা। এই রুটে প্রতিদিন বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, যেখানে যাত্রীরা তাদের বাজেট ও আরামের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শ্রেণীর টিকিট বেছে নিতে পারেন। ট্রেন ভ্রমণের অন্যতম সুবিধা হলো—একই রুটে ভিন্ন ভিন্ন দামের আসন ব্যবস্থা, যা সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য উপযোগী।

এই রুটে সাধারণত কয়েক ধরনের আসন পাওয়া যায়, যেমন শোভন, শোভন চেয়ার, প্রথম শ্রেণী, এসি সিট এবং এসি কেবিন। প্রতিটি আসনের ভাড়া আলাদা এবং সুবিধার দিক থেকেও পার্থক্য রয়েছে। যারা কম খরচে ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য শোভন বা শোভন চেয়ার সবচেয়ে ভালো অপশন। অন্যদিকে যারা আরামদায়ক ও উন্নত সেবা চান, তারা এসি সিট বা কেবিন বেছে নিতে পারেন।

বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের আনুমানিক ভাড়া হলো—শোভন শ্রেণীর জন্য প্রায় ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, শোভন চেয়ারের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। প্রথম শ্রেণীর টিকিট সাধারণত ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। আর যারা এসি সেবা নিতে চান, তাদের জন্য এসি সিটের ভাড়া প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং এসি কেবিনের ভাড়া ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

তবে মনে রাখতে হবে, ট্রেনের ধরন, সময় এবং সরকারি নীতিমালার পরিবর্তনের কারণে ভাড়া কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভাড়া যাচাই করা উত্তম। বিশেষ করে ছুটির দিন বা ঈদের সময় ভাড়া এবং টিকিটের চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে আগেভাগে টিকিট সংগ্রহ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে বলা যায়, ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেন ভ্রমণ শুধু আরামদায়কই নয়, বরং বাজেট-ফ্রেন্ডলি একটি মাধ্যম। আপনি আপনার প্রয়োজন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সঠিক আসন নির্বাচন করলে যাত্রাটি হবে আরও উপভোগ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

ঢাকা -থেকে -সিলেট -ট্রেনের -সময়সূচী

ঢাকা টু সিলেট ট্রেন স্টেশন লিস্ট

ঢাকা থেকে সিলেট রেলপথটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত রুটগুলোর একটি। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এই পথে যাতায়াত করেন। এই রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সাধারণত সব স্টেশনে না থেমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দিষ্ট স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। তাই স্টেশনগুলোর তালিকা জানা থাকলে যাত্রা আরও সহজ ও পরিকল্পিত হয়।

ঢাকা শহরের প্রধান রেলস্টেশন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেন যাত্রা শুরু হয়। এটি দেশের সবচেয়ে বড় এবং ব্যস্ততম রেলস্টেশন। এখান থেকে ছেড়ে ট্রেনটি প্রথমে রাজধানীর উত্তর অংশে অবস্থিত বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন-এ থামে, যা অনেক যাত্রীর জন্য সুবিধাজনক একটি স্টপেজ।

এরপর ট্রেনটি ঢাকা জেলার বাইরে গিয়ে কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী অঞ্চলের সংযোগস্থল ভৈরব বাজার জংশন-এ পৌঁছায়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন, যেখানে বিভিন্ন দিক থেকে ট্রেনের সংযোগ রয়েছে। তারপর ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন-এ থামে, যা পূর্বাঞ্চলের একটি ব্যস্ত স্টেশন হিসেবে পরিচিত।

পরবর্তী ধাপে ট্রেনটি হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রধান স্টেশন শায়েস্তাগঞ্জ জংশন-এ পৌঁছায়। এই স্টেশনটি সিলেট বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ কেন্দ্র। এখান থেকে ট্রেনটি সিলেট অঞ্চলের গভীরে প্রবেশ করে এবং চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন-এ থামে, যা পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

এরপর ট্রেনটি কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন-এ যাত্রাবিরতি দেয়, যা মৌলভীবাজার জেলার একটি বড় স্টেশন। কিছু কিছু ট্রেন মৌলভীবাজার (মাইজগাঁও) স্টেশন-এও থামে, যদিও সব ট্রেন এখানে থামে না।

সবশেষে ট্রেনটি তার গন্তব্য সিলেট রেলওয়ে স্টেশন-এ পৌঁছে যাত্রা শেষ করে। এই স্টেশনটি সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং এখান থেকেই যাত্রীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে সহজে যেতে পারেন।

সব মিলিয়ে, ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের প্রধান স্টেশনগুলো হলো: কমলাপুর, বিমানবন্দর, ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, (কিছু ক্ষেত্রে মৌলভীবাজার) এবং সিলেট।

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের কেবিন ভাড়া

ঢাকা থেকে সিলেট রুটে ট্রেন ভ্রমণ করতে গেলে যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের আসনের পাশাপাশি কেবিন সুবিধাও পেয়ে থাকেন। কেবিন হলো ট্রেনের সবচেয়ে আরামদায়ক ও ব্যক্তিগত ভ্রমণ ব্যবস্থা, যেখানে আপনি পরিবার বা প্রিয়জনদের সাথে নিরিবিলি পরিবেশে যাত্রা করতে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময়ের ভ্রমণের ক্ষেত্রে কেবিন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য দেয়।

এই রুটে সাধারণত দুই ধরনের কেবিন পাওয়া যায়—এসি কেবিন (AC Cabin) এবং কিছু ক্ষেত্রে নন-এসি ফার্স্ট ক্লাস কেবিন। তবে অধিকাংশ আন্তঃনগর ট্রেনে এখন আধুনিক এসি কেবিনই বেশি ব্যবহৃত হয়। এই কেবিনগুলোতে আরামদায়ক বেড, দরজা বন্ধ করার সুবিধা এবং তুলনামূলক বেশি গোপনীয়তা থাকে, যা অন্যান্য আসনের তুলনায় অনেক উন্নত।

বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের এসি কেবিন ভাড়া সাধারণত ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। কেবিনের ধরন (সিঙ্গেল বা ডাবল), ট্রেনের মান এবং সময় অনুযায়ী ভাড়া কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পুরো কেবিন বুক করতে হয়, তাই একাধিক যাত্রী একসাথে ভ্রমণ করলে খরচ ভাগ হয়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে যায়।

এছাড়া ছুটির দিন, ঈদ বা বিশেষ সময়ে কেবিনের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই আপনি যদি কেবিনে ভ্রমণ করতে চান, তাহলে আগেভাগে টিকিট বুক করা অত্যন্ত জরুরি। অনলাইন বা রেলস্টেশন থেকে সহজেই কেবিন বুক করা যায়।

সবশেষে বলা যায়, যারা আরাম, গোপনীয়তা এবং নিশ্চিন্ত ভ্রমণ চান, তাদের জন্য ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের কেবিন একটি চমৎকার অপশন। একটু বেশি খরচ হলেও এর সুবিধা ও আরামের কারণে অনেক যাত্রীই এই ব্যবস্থা বেছে নেন।

ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া

ঢাকা থেকে সিলেট রুটটি বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় রেলপথ। প্রতিদিন এই রুটে একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস এবং কালনী এক্সপ্রেস। এই ট্রেনগুলো নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী ঢাকা

 কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সাধারণত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ট্রেন পাওয়া যায়, যেমন সকাল প্রায় ৬:৩০ টায় প্রথম ট্রেন ছাড়ে এবং রাত ১০টার দিকে শেষ ট্রেন ছাড়ে। যাত্রার মোট সময় লাগে প্রায় ৬.৫ থেকে ৭ ঘণ্টা, যা ট্রেন ভেদে কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। 

ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনগুলোর সময়সূচী যাত্রীদের জন্য বেশ সুবিধাজনকভাবে সাজানো। যেমন, পারাবত এক্সপ্রেস সকালে ছেড়ে দুপুরে পৌঁছায়, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস দুপুরে ছেড়ে সন্ধ্যায় পৌঁছায়, কালনী এক্সপ্রেস বিকেলে ছেড়ে রাতে পৌঁছায় এবং উপবন এক্সপ্রেস রাতে ছেড়ে ভোরে সিলেটে পৌঁছায়। এই ভিন্ন সময়সূচীর কারণে যাত্রীরা তাদের সুবিধামতো সময় বেছে নিতে পারেন এবং দিনের বা রাতের ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেন।

ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেন ভাড়া আসনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সাধারণ শ্রেণীর মধ্যে সবচেয়ে সাশ্রয়ী হলো শোভন, যার ভাড়া প্রায় ২৬৫ টাকা। শোভন চেয়ারের ভাড়া সাধারণত ৩২০ থেকে ৩৭৫ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। প্রথম শ্রেণীর আসনের ভাড়া প্রায় ৪২৫ থেকে ৫৭৫ টাকা, আর প্রথম বার্থ বা কেবিনের ভাড়া আরও কিছুটা বেশি হয়। 


এছাড়া যারা আরামদায়ক ভ্রমণ চান, তাদের জন্য রয়েছে এসি শ্রেণীর আসন। স্নিগ্ধা (AC Chair) শ্রেণীর ভাড়া সাধারণত ৬১০ থেকে ৭১৯ টাকা এবং এসি সিটের ভাড়া প্রায় ৭৩৬ থেকে ১০৮৭ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, এসি বার্থ বা কেবিনের ভাড়া প্রায় ১০৯৯ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে, যা সবচেয়ে আরামদায়ক ও উন্নত ভ্রমণ সুবিধা প্রদান করে। 

সব মিলিয়ে বলা যায়, ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনে ভ্রমণ একটি আরামদায়ক, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী মাধ্যম। আপনি আপনার বাজেট ও সময় অনুযায়ী উপযুক্ত ট্রেন ও আসন নির্বাচন করলে যাত্রা হবে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক। তাই ভ্রমণের আগে সময়সূচী ও ভাড়া জেনে পরিকল্পনা করলে আপনার পুরো যাত্রা হবে ঝামেলামুক্ত ও উপভোগ্য।
ঢাকা -থেকে -সিলেট -ট্রেনের -সময়সূচী

বিমানবন্দর টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী

ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে সিলেটগামী ট্রেন যাত্রা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রেলপথ। এই রুটে প্রতিদিন অনেক যাত্রী যাতায়াত করেন, কারণ এটি ঢাকা শহরের উত্তর অংশ থেকে সহজ প্রবেশযোগ্য এবং যাত্রার সময়ও তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যময়। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সিলেট যাত্রা করলে কমলাপুরে আসা ছাড়াই সরাসরি যাত্রা শুরু করা যায়, যা অনেক সময় বাঁচায়।

বিমানবন্দর থেকে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস এবং কালনী এক্সপ্রেস। সাধারণত পারাবত এক্সপ্রেস সকালে বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে দুপুরের মধ্যে সিলেটে পৌঁছায়। এই ট্রেনে যাত্রার সময় প্রায় ৬ থেকে ৬.৫ ঘণ্টা। উপবন এক্সপ্রেস রাতে বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে ভোরের দিকে সিলেটে পৌঁছায়, যা রাতের ভ্রমণ পছন্দ করা যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক। কালনী এক্সপ্রেস বিকেলের দিকে ছেড়ে রাতের মধ্যে সিলেট পৌঁছে।

বিমানবন্দর থেকে সিলেটগামী ট্রেনের সঠিক সময়সূচী প্রায় এইরকম সাজানো—

পারাবত এক্সপ্রেস: সকাল ৬:২০ মিনিটে যাত্রা শুরু, দুপুর ১:০০ টায় সিলেটে পৌঁছায়।

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস: দুপুর ১১:১৫ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬:০০ টায় সিলেটে পৌঁছায়।

উপবন এক্সপ্রেস: রাত ৯:৫০ মিনিটে যাত্রা শুরু, ভোর ৫:০০ টায় সিলেটে পৌঁছায়।

কালনী এক্সপ্রেস: বিকেল ৩:০০ টায় ছেড়ে রাত ৯:৩০ টায় সিলেটে পৌঁছায়।

বিমানবন্দর থেকে সিলেট ট্রেন যাত্রা করলে যাত্রীরা মূলত কম স্টপেজের ট্রেন বেছে নেন, যা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। যাত্রার সময় বিমানবন্দর থেকে চা-বাগান, নদী এবং গ্রামীণ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

সবশেষে বলা যায়, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সিলেট ট্রেনে ভ্রমণ নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সময়নিষ্ঠ। আপনার যাত্রার পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল, দুপুর, বিকেল বা রাতের ট্রেন বেছে নিলে ভ্রমণ হবে আরও সহজ ও আনন্দময়।

কমলাপুর থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী

ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিলেট যাত্রা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় আন্তঃনগর রেলপথগুলোর একটি। প্রতিদিন এই রুটে কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, যা যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য ভ্রমণ ব্যবস্থা প্রদান করে। কমলাপুর থেকে ট্রেন যাত্রা করলে শহরের কেন্দ্রে থেকে সরাসরি যাত্রা শুরু করা যায়, যা সময় বাঁচায় এবং যাত্রাকে আরও সুবিধাজনক করে তোলে।

কমলাপুর থেকে সিলেটগামী ট্রেনগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেন হলো পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস এবং কালনী এক্সপ্রেস। পারাবত এক্সপ্রেস সকাল প্রায় ৬:২০ মিনিটে কমলাপুর থেকে ছেড়ে দুপুর ১:০০ টায় সিলেটে পৌঁছায়। এটি কম স্টপেজে চলাচল করে, তাই যাত্রা তুলনামূলক দ্রুত এবং আরামদায়ক।

দুপুরে যাত্রা শুরু করে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস বিকেল বা সন্ধ্যায় সিলেটে পৌঁছায়। এটি দিনের মধ্যে যাত্রার জন্য উপযুক্ত এবং অনেক যাত্রী এই ট্রেন বেছে নেন যারা দুপুরে ঢাকায় থাকতে চান। উপবন এক্সপ্রেস হলো রাতের ট্রেন, যা রাত ৯:৫০ মিনিটে কমলাপুর থেকে ছেড়ে ভোরের দিকে সিলেটে পৌঁছায়। যারা রাতের সময় যাত্রা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ। আর কালনী এক্সপ্রেস বিকেলে কমলাপুর থেকে ছেড়ে রাতের মধ্যে সিলেটে পৌঁছে।

কমলাপুর থেকে সিলেট যাত্রা করতে গেলে যাত্রীদের সুবিধার জন্য ট্রেনগুলো বিভিন্ন শ্রেণীর আসন ও কেবিন সেবা প্রদান করে। সাধারণ শোভন আসন, শোভন চেয়ার, প্রথম শ্রেণী এবং এসি সিট বা কেবিন—এই সমস্ত বিকল্প পাওয়া যায়। ভাড়া আসনের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। সাধারণ শোভন আসনের জন্য ভাড়া প্রায় ৩২০–৩৫০ টাকা, শোভন চেয়ার প্রায় ৪০০–৪৫০ টাকা, প্রথম শ্রেণী প্রায় ৬০০–৭০০ টাকা, এসি সিট প্রায় ৮০০–৯০০ টাকা এবং এসি কেবিন প্রায় ১২০০–১৫০০ টাকা।

সবশেষে বলা যায়, ঢাকা কমলাপুর থেকে সিলেট ট্রেনে যাত্রা করা নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সময়নিষ্ঠ। সঠিক ট্রেন এবং আসনের ধরন নির্বাচন করলে যাত্রা হবে আরও আনন্দময়, ঝামেলামুক্ত এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

ভৈরব টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশনগুলোর মধ্যে একটি। এটি ঢাকা-সিলেট রুটের মাঝামাঝি অবস্থানে অবস্থিত, তাই অনেক যাত্রী ভৈরব থেকে সিলেট যাত্রা শুরু করেন। ভৈরব থেকে সিলেটগামী ট্রেন যাত্রা নির্ভরযোগ্য, আরামদায়ক এবং তুলনামূলকভাবে দ্রুত। যাত্রীরা এখানে পৌঁছে সরাসরি সিলেটের উদ্দেশ্যে ট্রেনে চড়তে পারেন, যা শহরের কেন্দ্রীয় স্টেশন থেকে শুরু হওয়া যাত্রার বিকল্প হিসেবে বেশ সুবিধাজনক।

ভৈরব থেকে সিলেট যাওয়ার প্রধান ট্রেনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং কালনী এক্সপ্রেস। পারাবত এক্সপ্রেস ভৈরব থেকে প্রায় সকাল ৮:০০ মিনিটে ছেড়ে দুপুরের মধ্যে সিলেটে পৌঁছায়। এটি কম স্টপেজে চলাচল করে, তাই যাত্রা দ্রুত এবং আরামদায়ক।

দুপুরে যাত্রা শুরু করে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, বিকেল বা সন্ধ্যায় সিলেটে পৌঁছায়। এটি দিনের সময় যাত্রা পছন্দ করা যাত্রীদের জন্য উপযুক্ত। রাতের সময় চলা উপবন এক্সপ্রেস প্রায় রাত ১১:০০ টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে ভোর ৫:৩০ টায় সিলেটে পৌঁছায়। যারা রাতের ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ। এছাড়াও কালনী এক্সপ্রেস বিকেলে ভৈরব থেকে ছেড়ে রাতের মধ্যে সিলেটে পৌঁছায়, যা বিকেল বা সন্ধ্যায় যাত্রা করার জন্য সুবিধাজনক।

ভৈরব থেকে সিলেট যাত্রা করার সময় যাত্রীরা বিভিন্ন শ্রেণীর আসন নির্বাচন করতে পারেন—শোভন, শোভন চেয়ার, প্রথম শ্রেণী, এসি সিট এবং এসি কেবিন। ভাড়া আসনের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। সাধারণ শোভন আসনের জন্য প্রায় ২২০–২৫০ টাকা, শোভন চেয়ার প্রায় ৩০০–৩৫০ টাকা, প্রথম শ্রেণী প্রায় ৫৫০–৬৫০ টাকা, এসি সিট প্রায় ৭০০–৮০০ টাকা এবং এসি কেবিন প্রায় ১২০০–১৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

সবশেষে বলা যায়, ভৈরব থেকে সিলেট ট্রেন যাত্রা নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সময়নিষ্ঠ। সঠিক ট্রেন এবং আসনের ধরন নির্বাচন করলে যাত্রা হবে আরও উপভোগ্য, ঝামেলামুক্ত এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

শেষ কথা 

ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনে ভ্রমণ করা একটি সহজ, নিরাপদ এবং আরামদায়ক অভিজ্ঞতা। বিভিন্ন ট্রেনের ভিন্ন সময়সূচীর কারণে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী সকাল, দুপুর, বিকেল বা রাতের ট্রেন বেছে নিতে পারেন। পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস এবং কালনী এক্সপ্রেস—প্রতিটি ট্রেনই নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যাত্রীদের দ্রুত এবং সুরক্ষিতভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

ভ্রমণের সময় ট্রেনের ধরন এবং স্টপেজ অনুযায়ী যাত্রার সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে সঠিক ট্রেন নির্বাচন এবং আগে থেকে টিকিট কেটে নেওয়া হলে আপনার যাত্রা হবে ঝামেলামুক্ত, আরামদায়ক এবং স্মরণীয়। তাই ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনে যাত্রা করা কেবল একটি যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং একটি আনন্দময় অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্য, আরামদায়ক আসন এবং সময়নিষ্ঠ সেবা একসাথে উপভোগ করা যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে যাত্রা পরিকল্পনা করা সহজ হয় এবং পুরো ভ্রমণটি হয় আরও আনন্দময় ও নিরাপদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url