ঢেঁড়স খাওয়ার উপকারিতা

 

বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে ঢেঁড়স একটি জনপ্রিয় সবজি। কারও কাছে এটি শুধু সাধারণ সবজি হলেও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলে যে ঢেঁড়সকে একটি ‘সুপারফুড’ বলা যায়।

ঢেঁড়স -খাওয়ার -উপকারিতা

 কারণ, এই ছোট আঙুল-সদৃশ সবজিটি ভরপুর রয়েছে আঁশ, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা ধরনের উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগে। ফলে নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়া আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম শক্তি উন্নত করে, এমনকি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ থেকে শুরু করে চুল-ত্বকের যত্নেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এই লেখায় আমরা ঢেঁড়স খাওয়ার প্রায় সব স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, ব্যবহারবিধি, সতর্কতা এবং বাড়িতে কীভাবে ঢেঁড়স চাষ করা যায়—সবই বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

পেজ সূচিপএ : ঢেঁড়স খাওয়ার উপকারিতা

ঢেঁড়সের পুষ্টিগুণ: কেন এটি সুপারফুড?

ঢেঁড়সের প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে—

  • ক্যালরি: খুব কম

  • খাদ্য আঁশ: উচ্চ মাত্রা

  • ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ

  • ফোলেট

  • ক্যালসিয়াম

  • পটাশিয়াম

  • ম্যাগনেসিয়াম

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (পলিফেনলস, ফ্ল্যাভোনয়েডস)

ঢেঁড়সের পিচ্ছিল অংশে রয়েছে ‘মিউসিলেজ’, যা হজমে অবিশ্বাস্যভাবে উপকারী। এই মিউসিলেজ আমাদের অন্ত্রের ভিতরের অংশকে সুরক্ষা দেয় এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন : চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা


ঢেঁড়স খাওয়ার ২০টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উপকারিতা

নীচে ঢেঁড়স ও ঢেঁড়সের বীজ, পানি, স্যুপ বা তরকারি—সব ধরনের ব্যবহারের পূর্ণ উপকারিতা ব্যাখ্যা করা হলো।


১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ কার্যকর

ঢেঁড়স ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর আঁশ রক্তে গ্লুকোজ শোষণের মাত্রা কমায়। ঢেঁড়সের পানি ইনসুলিন সাড়া বাড়াতেও সহায়তা করে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে টাইপ–২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।


২. হজমশক্তি বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

ঢেঁড়সের আঁশ অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায়। এর পিচ্ছিল অংশ পাকস্থলীর আস্তরণ রক্ষা করে। ফলে—

  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়

  • গ্যাস্ট্রিক কমে

  • আলসার হওয়ার ঝুঁকি কমে

  • হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়

এ কারণে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য ঢেঁড়স অত্যন্ত উপকারী।

আরো পড়ুন : কাঁচা আমলকি খাওয়ার উপকারিতা


৩. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

ঢেঁড়সে থাকা পলিফেনলস ও আঁশ খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমায়। আবার পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
ফলে নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়া—

  • হার্ট অ্যাটাক

  • স্ট্রোক

  • উচ্চ রক্তচাপ

এই তিনটির ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।


৪. ওজন কমাতে সহায়ক

ওজন কমানোর ডায়েটে ঢেঁড়স একটি আদর্শ সবজি কারণ—

  • এতে ক্যালরি কম

  • পেট ভরা রাখে

  • হজমের সমস্যা কমায়

  • শরীরে চর্বি জমা হওয়া কমায়

যারা দ্রুত বা স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমাতে চান, তারা সপ্তাহে কমপক্ষে ৩–৪ দিন ঢেঁড়স খেতে পারেন।

আরো পড়ুন : রসুন খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা


৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ঢেঁড়স ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এগুলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

ফলে—

  • সর্দি-কাশি কম হয়

  • সংক্রমণ প্রতিরোধ হয়

  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

শিশুদের জন্য ঢেঁড়স বিশেষভাবে উপকারী।


৬. ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে

ঢেঁড়সে থাকা ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিন ত্বকের কোলাজেন বাড়ায়। নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে—

  • ত্বক উজ্জ্বল হয়

  • বলিরেখা কমে

  • ব্রণ নিয়ন্ত্রণে থাকে

  • ত্বক মসৃণ হয়

ঢেঁড়সের সেদ্ধ পানি মুখে লাগালে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হয়।ৎ

আরো পড়ুন : চুইঝাল গাছ চেনার উপায় 


৭. চুল পড়া কমায়

ঢেঁড়স চুলের জন্য একটি প্রাকৃতিক হেয়ার কন্ডিশনার। এতে থাকা—

  • ভিটামিন সি

  • ফলিক অ্যাসিড

  • মিনারেল

চুলের গোড়া শক্ত করে।

ঢেঁড়স সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে চুল ধুলে—

  • চুল পড়া কমে

  • খুশকি কমে

  • চুল চকচকে হয়


৮. শরীরের প্রদাহ কমায়

ঢেঁড়সের ফ্ল্যাভোনয়েড ও কুইনোলোন যৌগ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফলে—

  • আর্থ্রাইটিস

  • জয়েন্টের ব্যথা

  • শরীর ব্যথা

এসব সমস্যা কমে আসে।

আরো পড়ুন : ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা


৯. হাড় মজবুত করে

ঢেঁড়সে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন কে ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এগুলো—

  • হাড় শক্ত করে

  • অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমায়

  • বয়স্ক মানুষের জন্য উপকারী


১০. গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী

ঢেঁড়সের ফোলেট গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এটি জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সহায়ক।

তবে খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা ভালো।

ঢেঁড়স -খাওয়ার -উপকারিতা

১১. চোখের দৃষ্টি শক্তিশালী করে

ভিটামিন এ ও বিটা-ক্যারোটিনে সমৃদ্ধ হওয়ায় ঢেঁড়স—

  • চোখের দৃষ্টি ভালো রাখে

  • চোখ শুকিয়ে যাওয়া কমায়

  • রাতকানা প্রতিরোধ করে

১২. ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা

ঢেঁড়সের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কমায়। ফলে কোলন ক্যানসার, স্তন ক্যানসার ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা কমে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।


১৩. রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে

ঢেঁড়সে আয়রন ও ফোলেট রয়েছে যা রক্ত উৎপাদনে সহায়ক।
ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।


১৪. কিডনি সুস্থ রাখে

ঢেঁড়সের পিচ্ছিল উপাদান কিডনি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং কিডনি পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে।

আরো পড়ুন : হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয়

১৫. লিভার সুরক্ষা দেয়

ঢেঁড়স শরীরের টক্সিন পরিষ্কার করে এবং লিভারের কাজ হালকা করে। ফলে ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য উপকারী।


১৬. শক্তি বাড়ায়

ঢেঁড়সে থাকা মিনারেল শরীরে শক্তি জোগায়। নিয়মিত খেলে ক্লান্তি কম হয়।


১৭. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে

ঢেঁড়সের ম্যাগনেসিয়াম স্নায়ু শান্ত করে। ফলে মন ভালো থাকে এবং স্ট্রেস কমে।


১৮. হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ঢেঁড়স নারীদের হরমোন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। মাসিক অনিয়ম, পিরিয়ডের ব্যথা কমাতেও এটি উপকারী।

আরো পড়ুন : e cap 400


১৯. শরীরে জলধারণ কমায়

ঢেঁড়সের পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ ও জল বের করতে সাহায্য করে। ফলে ফোলাভাব কমে।


২০. রক্ত পরিষ্কার রাখে

ঢেঁড়স শরীর থেকে টক্সিন ও বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে, রক্ত পরিষ্কার রাখে এবং ত্বক সুস্থ করে।


ঢেঁড়সের পানি খাওয়ার উপকারিতা

অনেকেই ঢেঁড়স রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি খান। এর বিশেষ উপকারিতা—

  • রক্তে সুগার কমায়

  • কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে

  • হজম ভালো করে

  • শরীর ঠান্ডা রাখে

  • কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

প্রস্তুত প্রণালী খুব সহজ:
২–৩টি ঢেঁড়স কেটে রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ছেঁকে পানি খান।

আরো পড়ুন : লিনডাক ২০০ এর কাজ কি


ঢেঁড়সের বীজের গুঁড়ার উপকারিতা

ঢেঁড়সের বীজ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে। বীজ শুকিয়ে গুঁড়া করে খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।


সতর্কতা

যদিও ঢেঁড়স খুব স্বাস্থ্যকর, তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন—

  • কারও কারও অ্যালার্জি হতে পারে

  • অতিরিক্ত খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা হতে পারে

  • কিডনি সমস্যায় খুব বেশি না খাওয়াই ভালো

সাধারণভাবে প্রতিদিন ৫০–১০০ গ্রাম ঢেঁড়স যথেষ্ট।

আরো পড়ুন : ব্লগিং কীভাবে শুরু করা যায় – নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড


ঢেঁড়স কীভাবে রান্না করলে পুষ্টিগুণ বজায় থাকে?

  • হালকা ভাজি

  • সেদ্ধ বা ভাপা

  • ডাল বা স্যুপে

  • সালাদে (সামান্য সেদ্ধ করে)

অতিরিক্ত ভাজা বা বেশি তেলে রান্না করলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।


বাড়িতে ঢেঁড়স চাষ করা খুব সহজ

আপনি চাইলে বাসার বারান্দা বা ছাদে টবেও ঢেঁড়স চাষ করতে পারেন—

  • বীজ বপনের ৪৫–৬০ দিনের মধ্যে ফল পাওয়া যায়

  • বেশি রোদ লাগে

  • অল্প পানিতে হয়

  • সার কম লাগে

গর্ভাবস্থায় ঢেঁড়স খাওয়ার উপকারিতা

১. শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বিকাশে সাহায্য করে

ঢেঁড়স ফোলেট (Folate)–সমৃদ্ধ।
ফোলেট গর্ভের শিশুর—

  • মস্তিষ্ক

  • স্পাইনাল কর্ড

  • স্নায়ুতন্ত্র

ঠিকভাবে গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এটি নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (জন্মজনিত ত্রুটি) হওয়ার ঝুঁকি কমায়।


২. মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

গর্ভাবস্থায় শরীরের হরমোন পরিবর্তন ও আয়রন ট্যাবলেটের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
ঢেঁড়সের আঁশ অন্ত্র নরম করে এবং মলত্যাগ সহজ করে।

আরো পড়ুন :লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা


৩. রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) প্রতিরোধে সহায়ক

ঢেঁড়সে রয়েছে—

  • আয়রন

  • ভিটামিন সি

  • ফোলেট

যা নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে এবং অ্যানিমিয়া কমায়।
অ্যানিমিয়া কমলে মা কম ক্লান্ত হন এবং শিশুও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে।


৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়।
ঢেঁড়সের ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।


৫. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes) অনেক মহিলার হয়।
ঢেঁড়সের দ্রবণীয় আঁশ রক্তে সুগার স্থিতিশীল রাখে।

আরো পড়ুন : জিফোরেট 5 খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা


৬. পেটের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক ও অম্বল কমায়

ঢেঁড়সের পিচ্ছিল উপাদান (mucilage)—

  • পেট ঠান্ডা রাখে

  • গ্যাস্ট্রিক কমায়

  • অম্বল ও অ্যাসিডিটি হ্রাস করে

এটি পেটের জন্য খুবই আরামদায়ক একটি সবজি।


৭. শিশুর হাড় ও দাঁত গঠনে সহায়ক

ঢেঁড়সে আছে—

  • ক্যালসিয়াম

  • ম্যাগনেসিয়াম

  • ভিটামিন কে

যা গর্ভের শিশুর শক্ত হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন : দুধ খাবার উপকারিতা অপকারিতা


৮. হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভালো

ঢেঁড়সের পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকা অত্যন্ত জরুরি।


৯. ত্বক ও চুল সুস্থ রাখে

গর্ভাবস্থায় হরমোনজনিত কারণে ত্বক-চুলের সমস্যা দেখা দেয়।
ঢেঁড়সের—

  • ভিটামিন সি

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

  • ফলিক অ্যাসিড

ত্বককে উজ্জ্বল রাখে এবং চুল পড়া কমায়।


🥗 গর্ভাবস্থায় ঢেঁড়স কীভাবে খাবেন

  • হালকা ভাজি

  • সেদ্ধ বা ভাপা

  • ডাল বা স্যুপে

  • ঢেঁড়সের পানি

  • খিচুড়ি বা ভর্তা

কাঁচা ঢেঁড়সও খাওয়া যায়, তবে অনেকের পেটে অস্বস্তি হতে পারে—এই ক্ষেত্রে রান্না করা ঢেঁড়সই ভালো।

ঢেঁড়স -খাওয়ার -উপকারিতা

ডায়াবেটিসে ঢেঁড়সের উপকারিতা

১. রক্তে শর্করা ধীরে শোষিত হয়

ঢেঁড়সে রয়েছে soluble fiber (দ্রবণীয় আঁশ), যা—

  • খাদ্য হজম ধীর করে

  • রক্তে গ্লুকোজ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রোধ করে

  • ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে

ফলে খাবারের পর রক্তে সুগার স্থিতিশীল থাকে।

আরো পড়ুন : অনলাইন ইনকাম সাইট বিকাশ পেমেন্ট


২. ঢেঁড়সের পানি রক্তে সুগার কমাতে সাহায্য করে

অনেক ডায়াবেটিস রোগী সকালে খালি পেটে ঢেঁড়স ভিজানো পানি পান করেন।
এই পানির পিচ্ছিল উপাদান (mucilage) গ্লুকোজ শোষণ কমায় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়।

কীভাবে তৈরি করবেন:
২–৩টি ঢেঁড়স কেটে এক গ্লাস পানিতে রাতে ভিজিয়ে রাখুন, সকালে সেই পানি পান করুন।


৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীকে সুরক্ষা দেয়

ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তনালীর ক্ষতি বেশি হয়।
ঢেঁড়সের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন—

  • পলিফেনল

  • ফ্ল্যাভোনয়েড

  • ভিটামিন সি

রক্তনালীকে প্রদাহ থেকে রক্ষা করে ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।


৪. ঢেঁড়স কোলেস্টেরল কমায়—হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে।
ঢেঁড়স খেলে—

  • LDL (খারাপ কোলেস্টেরল) কমে

  • HDL (ভাল কোলেস্টেরল) বাড়ে

ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।

আরো পড়ুন : অতিরিক্ত কাশি হলে কি ওষুধ খাব 


৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

ওজন নিয়ন্ত্রণ ডায়াবেটিসে অত্যন্ত জরুরি।
ঢেঁড়সে ক্যালরি কম এবং আঁশ বেশি, তাই—

  • পেট ভরা রাখে

  • অতিরিক্ত খিদে কমায়

  • শরীরের চর্বি কমাতে সাহায্য করে

ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।


৬. হজমশক্তি বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

ডায়াবেটিস রোগীদের হজম সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ ব্যাপার।
ঢেঁড়সের আঁশ অন্ত্র পরিষ্কার রাখে এবং হজম ঠিক রাখে।


৭. ইমিউনিটি বাড়ায়

ডায়াবেটিসে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
ঢেঁড়সের ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

আরো পড়ুন : বেক্সট্রাম গোল্ড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 


🥗 ডায়াবেটিস রোগী কীভাবে ঢেঁড়স খাবেন?

✔ হালকা ভাজি

✔ ভাপা/সেদ্ধ

✔ ঢেঁড়সের পানি

✔ ডালে ঢেঁড়স

✔ দিনে ৫০–১০০ গ্রাম যথেষ্ট

অতিরিক্ত তেল, ভাজা বা পকোড়া জাতীয় ঢেঁড়স ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত নয়।


⚠️ সতর্কতা

  • ঢেঁড়স খেলে কারও পেট ফাঁপা হতে পারে

  • যাদের ঢেঁড়সে অ্যালার্জি আছে তারা এড়িয়ে চলবেন

  • ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে ঢেঁড়সের পানি একসাথে নেবেন না (২–৩ ঘণ্টা বিরতি দিন)

  • গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা ভালো


ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঢেঁড়স কেন এত কার্যকর?

কারণ এতে আছে—
✔ দ্রবণীয় আঁশ
✔ পলিফেনল
✔ ভিটামিন সি
✔ মিউসিলেজ
✔ কম ক্যালরি

এই উপাদানগুলো সুগার নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

ঢেঁড়স খেলে কি এলার্জি হয় 

যাদের ঢেঁড়সে অ্যালার্জি আছে, তাদের মধ্যে সাধারণত নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো দেখা যায়—
  • মুখ, ঠোঁট বা জিহ্বা চুলকানো

  • ত্বকে লালচে দাগ বা র‍্যাশ

  • চোখ চুলকানো বা পানি পড়া

  • বমি ভাব বা পেট খারাপ

  • গলা চুলকানো বা হাঁপানির মতো অনুভূতি

  • খুব বিরল ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট (গুরুতর অ্যালার্জি)


কেন ঢেঁড়স অ্যালার্জি হতে পারে?

ঢেঁড়সে থাকা কিছু প্রাকৃতিক প্রোটিন এবং পিচ্ছিল উপাদান (মিউসিলেজ) সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অ্যালার্জি উদ্দীপিত করতে পারে।
যাদের—

  • পরাগরেণু (pollen)

  • কিছু নির্দিষ্ট সবজি

  • ল্যাটেক্স

  • বেগুন জাতীয় সবজি

এসবের প্রতি অ্যালার্জি আছে, তাদের মধ্যে ঢেঁড়স অ্যালার্জির ঝুঁকি একটু বেশি।


কি করবেন যদি ঢেঁড়স খেয়ে অ্যালার্জি হয়?

  • ঢেঁড়স খাওয়া বন্ধ করুন

  • অ্যান্টিহিস্টামিন (যেমন লোরাটাডিন/সেট্রিজিন) নিতে পারেন

  • ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান


আরো পড়ুন : কাজু বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা 

ঢেঁড়স অ্যালার্জি কি সবার হয়?

না, মোটেও না। অ্যালার্জি খুবই বিরল।
১০০ জনের মধ্যে ২–৩ জনের এমন সমস্যা দেখা যেতে পারে, বাকিরা স্বাভাবিকভাবে ঢেঁড়স খেতে পারেন।

শেষ কথা

ঢেঁড়স একটি সস্তা, সহজলভ্য কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। এটি শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, বরং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হজমশক্তি উন্নত করা, হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা, ত্বক-চুলের যত্ন থেকে শুরু করে হাড় মজবুত করা—সব ক্ষেত্রেই অনন্য ভূমিকা রাখে।

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সপ্তাহে অন্তত ৩–৪ দিন ঢেঁড়স খাওয়া অভ্যাস করা উচিত।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url