গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কিন্তু সংবেদনশীল সময়। এ সময় মায়ের সামান্য অসতর্কতাও শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কী খাবেন আর কী খাবেন না – তা জানা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে ডাক্তাররা গর্ভবতী নারীদের বেশি বেশি ফল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে বলেন। কারণ ফল ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ অনেক উপকারী উপাদান সরবরাহ করে, যা মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য প্রয়োজন।
তবে সব ফল গর্ভাবস্থায় সমান উপকারী নয়। কিছু ফল অতিরিক্ত খেলে বা নির্দিষ্ট অবস্থায় খেলে সমস্যা হতে পারে, শরীরে চাপ ফেলতে পারে কিংবা শিশুর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো—
পেজ সূচিপএ : গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না
গর্ভাবস্থায় কোন ফলগুলো খাওয়া ঠিক নয়?
নীচে এমন কিছু ফলের তালিকা দেওয়া হলো যা অনেক সময় গর্ভাবস্থায় ডাক্তাররা না খাওয়ার পরামর্শ দেন:
-
পেঁপে
-
আনারস
-
কাঁচা কলা
-
আঙ্গুর (কিছু ক্ষেত্রে)
-
লিচু
-
কাঁচা কাঁঠাল
-
তরমুজ বেশি পরিমাণে
-
শুকনো খেজুর (অতিরিক্ত)
-
অতিরিক্ত আম
-
সংরক্ষিত বা কেমিক্যালযুক্ত ফল
এখন প্রতিটি ফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আরো পড়ুন : মালয়েশিয়া ভিসা চেকিং
১. পেঁপে – কেন গর্ভাবস্থায় এড়াতে বলা হয়
পেঁপের নাম প্রথমেই আসে কারণ কাঁচা বা আধা-পাকা পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স নামক রাসায়নিক উপাদান জরায়ু সংকোচন ঘটাতে পারে। এতে—
-
প্রি-ম্যাচিউর লেবার হতে পারে
-
গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে
-
জরায়ুর পেশীতে চাপ পড়ে
-
পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি হতে পারে
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা পেঁপের ল্যাটেক্স প্রোস্টাগ্লান্ডিন ও অক্সিটোসিন হরমোনের মতো কাজ করে, যা প্রসব ব্যথা তৈরি করে।
কি পাকা পেঁপে খাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, সম্পূর্ণ পাকা পেঁপে সীমিত পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ। তবে প্রথম ৩ মাস বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়।
আরো পড়ুন : মেয়েদের ইসলামিক নাম
২. আনারস – ব্রোমেলিন থাকার কারণে ঝুঁকি
আনারসে ব্রোমেলিন নামে এক ধরনের এনজাইম থাকে, যা জরায়ু নরম করে দিতে পারে এবং বেশি খেলে প্রসব বেদনা শুরু করতে পারে। তাই—
-
প্রথম তিন মাস আনারস খাওয়া না করাই ভালো
-
একসাথে বেশি আনারস খেলে গর্ভস্থ শিশুর জন্য ঝুঁকি বাড়ে
-
বিশেষ করে যদি গর্ভে জটিলতা থাকে তবে সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত
তবে এক-দু’পিস খেলে সাধারণত সমস্যা হয় না, তবুও ডাক্তারদের অনেকে সতর্ক থাকতে বলেন।
আরো পড়ুন : জ দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম
৩. কাঁচা কলা – হজমের সমস্যা ও অ্যালার্জি
কাঁচা কলায় স্টার্চ বেশি থাকে, যা অনেক মায়ের—
-
গ্যাস
-
কোষ্ঠকাঠিন্য
-
পেটের অস্বস্তি
বাড়িয়ে দিতে পারে।
কিছু মানুষের ল্যাটেক্স অ্যালার্জি থাকলে কাঁচা কলা খেলে রিয়েকশন হতে পারে, যা গর্ভে শিশুর জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. আঙ্গুর – কেৎহরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে
-
গ্যাস ও ডায়রিয়া হতে পারে
-
রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে
এছাড়াও কালো আঙ্গুরে শর্করা ও ক্যালোরি বেশি হওয়ায় গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে সম৫. লিচু – চিনি বেশি ও টক্৬. কাঁচা কাঁঠাল – অতিরিক্ত গ্যাস ও হজম সমস্যা
কাঁঠাল স্বাদে ভালো হলেও—
-
গ্যাস
-
বুকজ্বালা
-
পেট ব্যথা
-
ডাইজেশনে সমস্যা
বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষ করে কাঁচা কাঁঠালের স্টার্চ হজমের সমস্যা করে। তাই গর্ভাবস্থায় কম খাওয়াই নিরাপদ।
আরো পড়ুন : সারা গায়ে চুলকানি ঔষধ
৭. তরমুজ – বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়
তরমুজ শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়, কিন্তু—
-
বেশি খেলে শরীরের মিনারেল ও পানি কমে যেতে পারে
-
রক্তে চিনি বাড়তে পারে
-
ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে
-
শরীর দুর্বল লাগতে পারে
তবে প্রাকৃতিক ও জলসমৃদ্ধ তরমুজ সীমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।
৮. খেজুর – অতিরিক্ত খেলে সমস্যা
খেজুর প্রাকৃতিক শক্তির উৎস, কিন্তু—
-
চিনি বেশি
-
ক্যালরি বেশি
-
শরীর গরম করে
-
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে বিপজ্জনক
তাই প্রথম তিন মাস অতিরিক্ত খেজুর বাদ দেওয়া ভালো। শেষ মাসে ডাক্তার অনুমতি দিলে সামান্য খাওয়া যেতে পারে।
আরো পড়ুন : চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা
৯. অতিরিক্ত আম – গরম স্বভাব ও কেমিক্যাল ঝুঁকি
আম সাধারণত নিরাপদ। কিন্তু—
-
বাজারের অনেক আমে কেমিক্যাল ও কার্বাইড থাকে
-
অতিরিক্ত খেলে গ্যাস, ডায়াবেটিস ও ওজন বৃদ্ধি হতে পারে
-
শরীর গরম করে
তাই কেমিক্যালমুক্ত আম সীমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।
১০. সংরক্ষিত বা কেমিক্যালযুক্ত ফল
এ ধরনের ফল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ—
-
সালফেট, ফরমালিন, কার্বাইড শরীরে বিষক্রিয়া ছড়াতে পারে
-
শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে
-
যকৃত ও কিডনিতে চাপ পড়ে
তাই অর্গানিক বা বাড়িতে ধোয়া তাজা ফল খাওয়াই উত্তম।
আরো পড়ুন : কলা খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার নিয়ম
✔ দিনে ২–৩ ধরনের ফল খাওয়া ভালো
একই ফল বেশি খেলে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়।
✔ খাবার ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে
রাসায়নিক, কীটনাশক ও ধুলো ঝুঁকি কমে।
✔ রাতের দিকে বেশি ফল খাবেন না
গ্যাস ও অস্বস্তির ঝুঁকি থাকে।
✔ চিনি বা ডায়াবেটিস থাকলে ডাক্তারকে জানান
কারণ অনেক ফলেই প্রাকৃতিক সুগার বেশি।
আরো পড়ুন : কেটি সিরাপ এর কাজ কি
গর্ভাবস্থায় কোন ফল বেশি উপকারী?
নীচের ফলগুলো গর্ভাবস্থায় বিশেষভাবে উপকারী—
✔ আপেল
✔ কমলা
✔ কলা (পাকা)
✔ পেয়ারা
✔ ডালিম
✔ কিউই
✔ বেরিজাতীয় ফল
✔ নারকেল পানি
✔ পাকা পেঁপে (সীমিত পরিমাণ)
এগুলো—
-
রক্ত বাড়ায়
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
-
হজম ভালো করে
-
শিশুর মস্তিষ্ক, হাড় ও ওজন বাড়াতে সাহায্য করে
যদি গর্ভাবস্থায় কোনো ফল খেয়ে সমস্যা হয় – কী করবেন?
যদি ফল খাওয়ার পর—
-
পেটে ব্যথা
-
অতিরিক্ত রক্তস্রাব
-
বমি
-
মাথা ঘোরা
-
ডায়রিয়া
-
অস্বাভাবিক ক্লান্তি
হয়, তাহলে—
-
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারকে জানান
-
সেটি খাওয়া বন্ধ করুন
-
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না।
আরো পড়ুন : কাঁচা আমলকি খাওয়ার উপকারিতা
মা-বাচ্চার সুরক্ষায় চূড়ান্ত পরামর্শ
-
কিছু ফল পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়, কিন্তু পরিমাণ ও সময় মেনে চলা জরুরি
-
প্রথম তিন মাস গর্ভে পরিবর্তন বেশি হয়, তাই বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন
-
সন্দেহ হলে ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন
-
অন্যের কথা শুনে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করবেন না
গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়া যাবে কি
কাঁচা কলায় এমন কিছু উপাদান থাকে যা—
✔ হজমে সমস্যা করতে পারে
কাঁচা কলায় স্টার্চ বেশি থাকে, যা অনেক গর্ভবতী নারীর—
-
পেট ফাঁপা
-
গ্যাস
-
বুক জ্বালা
-
কোষ্ঠকাঠিন্য
বাড়িয়ে দিতে পারে।]ৎ
আরো পড়ুন : রসুন খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
✔ ল্যাটেক্স অ্যালার্জি ঝুঁকি
যাদের শরীরে ল্যাটেক্স অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে কাঁচা কলা—
-
অ্যালার্জিক রিয়েকশন
-
চুলকানি
-
শ্বাসকষ্ট
-
ত্বকে দাগ
তৈরি করতে পারে।
✔ গর্ভকালীন ডাইজেশনে চাপ
গর্ভাবস্থায় হজম প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়। এই সময় কাঁচা কলার মতো ভারী খাবার হজমে বেশি চাপ ফেলে।
তাহলে কি খাওয়া যাবে না?
ডাক্তারের দৃষ্টিতে—
-
বেশি পরিমাণে না
-
যদি হজম সমস্যা থাকে তবে এড়ানো ভালো
-
বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে সতর্ক থাকা উচিত
তবে যাদের হজমে সমস্যা নেই, তারা সামান্য পরিমাণে মাঝে মাঝে খেতে পারেন।
আরো পড়ুন : গ্রামীন এমবি চেক কোড ২০২৪
পাকা কলা কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, পাকা কলা গর্ভাবস্থায় নিরাপদ ও খুব উপকারী, কারণ—
-
পটাশিয়াম
-
ক্যালসিয়াম
-
আয়রন
-
ভিটামিন B6
-
ফাইবার
পেট ভরে, শক্তি দেয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ও বমি-বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় কি কি মাছ খাওয়া যাবে না
গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়া খুব উপকারী, কারণ এতে প্রোটিন, ওমেগা–৩, আয়রন ও নানা পুষ্টি থাকে। তবে কিছু মাছ গর্ভাবস্থায় একেবারে এড়িয়ে চলা বা সীমিত খাওয়া জরুরি, কারণ এগুলোতে পারদ (Mercury), রাসায়নিক টক্সিন বা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
নীচে গর্ভাবস্থায় যে মাছগুলো না খাওয়াই ভালো তার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো—
হাঙর (Shark)
এই মাছেতে মার্কারি (পারদ) খুব বেশি, যা—
-
শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে
-
শিশুর বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে
তাই এড়িয়ে চলা ভালো।
আরো পড়ুন : চুইঝাল গাছ চেনার উপায়
২. সোর্ডফিশ (Swordfish)
এতেও মার্কারি উচ্চ মাত্রায় থাকে।
সেজন্য গর্ভাবস্থায় না খাওয়ার পরামর্শ
দেওয়া হয়।
৩. ম্যাকেরেল (King Mackerel)
বড় সাইজের ম্যাকেরেলে—
-
বেশি পরিমাণে পারদ
-
হরমোনের ভারসাম্য নষ্টের ঝুঁকি
থাকে, তাই গর্ভবতীদের জন্য পরিহার্য।
৪. টুনা (বড় সাইজের)
বিশেষ করে—
-
আলব্যাকোর টুনা
-
ইয়েলোফিন টুনা
-
বিগআই টুনা
এগুলোতে পারদ বেশি।
ছোট সাইজের টুনা সীমিত খাওয়া যায়, তবে
ডাক্তারের পরামর্শ ভালো।
৫. ওরফিশ
গভীর সাগরের মাছ, পারদ বেশি, তাই এড়িয়ে চলা উচিত।
আরো পড়ুন : বেক্সট্রাম গোল্ড খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
৬. পাফার ফিশ (ফুগু)
এই মাছের কিছু অঙ্গ প্রাণঘাতী টক্সিনযুক্ত।
খাওয়া একেবারেই নিরাপদ নয়।
৭. কাঁচা বা আধা সেদ্ধ মাছ
যেমন—
-
সুশি
-
কাঁচা ইলিশ
-
আধ সেদ্ধ সামুদ্রিক মাছ
এগুলোতে ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবী থাকার ঝুঁকি থাকে, যা—
-
ফুড পয়জনিং
-
শিশুর সংক্রমণ
-
গর্ভপাত পর্যন্ত হতে পারে
তাই একেবারে এড়িয়ে চলা উচিত।
আরো পড়ুন : সুপ্রাভিট এম এর উপকারিতা
৮. বেশি কেমিক্যালযুক্ত মাছ
যেমন—
-
ফরমালিন যুক্ত বাজারের মাছ
-
দূষিত পানির মাছ
যেগুলোতে—
-
সীসা
-
আর্সেনিক
-
রাসায়নিক বিষ
থাকার ঝুঁকি থাকে।
⚠ যে চিংড়ি/টেঁচা মাছ এড়ানো ভালো
-
বড় সাইজের সামুদ্রিক চিংড়ি
-
কাঁচা চিংড়ি
-
রাসায়নিকযুক্ত খামারের চিংড়ি
কারণ এগুলোতেও টক্সিন বা হেভি মেটালের ঝুঁকি বেশি।
আরো পড়ুন : সকালে খালি পেটে কালোজিরা খাবার খাওয়ার উপকারিতা
⭐ গর্ভাবস্থায় যে মাছগুলো নিরাপদ
এগুলো সাধারণত নিরাপদ এবং উপকারী—
-
রুই
-
কাতলা
-
তেলাপিয়া
-
পাঙ্গাস
-
ছোট মাছ (মলা, কাচকি, শিং, পুঁটি)
-
স্যামন
-
সার্ডিন
-
হিলশা (ভালভাবে সেদ্ধ হয়ে)
দিনে ৮৫–১০০ গ্রাম পরিমাণ হলেই যথেষ্ট।
✔ মাছ খাওয়ার সময় সতর্কতা
-
মাছ ভালো করে ধুয়ে রান্না করুন
-
কাঁচা বা আধা সেদ্ধ মাছ খাবেন না
-
একই ধরনের মাছ প্রতিদিন না খাওয়া
-
বাজার থেকে সতেজ মাছ কিনুন
-
কেমিক্যালযুক্ত মাছ থেকে দূরে থাকুন
গর্ভাবস্থায় আমড়া খাওয়া যাবে কি
আমড়ায় রয়েছে—
-
ভিটামিন C
-
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
-
ফাইবার
-
ক্যালসিয়াম
-
আয়রন
যা মায়ের ও শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
✔ আমড়া খেলে যে উপকারগুলো হয়
১️⃣ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ভিটামিন C থাকার কারণে সর্দি, কাশি ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
২️⃣ হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকারী
ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
৩️⃣ রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য
আমড়ার ভিটামিন C খাবার থেকে আয়রন শোষণে সাহায্য করে।
৪️⃣ দাঁত ও হাড়ের জন্য ভালো
ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান শিশুর হাড়, দাঁত ও মায়ের শরীর শক্তিশালী রাখে।
আরো পড়ুন : কুয়েতে হোটেল ভিসা বেতন কত এবং কুয়েতে ক্লিনার ভিসা বেতন ২০২5
⚠ তবে যাদের সাবধানে খেতে হবে
❌ অতিরিক্ত টক সহ্য না হলে
বুক জ্বালা বা গ্যাস হতে পারে।
❌ যাদের এসিডিটি বা আলসারের সমস্যা আছে
তাদের বেশি খাওয়া ঠিক নয়।
❌ বেশি লবণ বা আচার করা আমড়া
গর্ভাবস্থায় বেশি লবণযুক্ত খাবার—
-
রক্তচাপ বাড়াতে
-
পানি জমাতে
পারে, তাই কম খাওয়া ভালো।
⭐ কতটা আমড়া খাওয়া নিরাপদ?
-
প্রতিদিন ১–২টি আমড়া যথেষ্ট
-
খাবার পরে খেলে হজমে আরাম হয়
-
অ্যালার্জি বা সমস্যা দেখা দিলে বন্ধ করুন
❗ খাওয়ার সময় কিছু সতর্কতা
✔ ভালোভাবে ধুয়ে খান
✔ কেমিক্যাল বা আচার করা
আমড়া এড়ান
✔ পেটে জ্বালা থাকলে অল্প
খাওয়া
✔ ডাক্তারের বিশেষ নির্দেশ
থাকলে তা মানুন
গর্ভাবস্থায় টক খাওয়া যাবে কি
হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় টক খাওয়া যায়, তবে পরিমাণ ও শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। অনেক গর্ভবতী মা প্রথম তিন মাসে বমি-বমি ভাব ও স্বাদ পরিবর্তনের কারণে টক খাবারে স্বস্তি পান। তবে কিছু ক্ষেত্রে টক বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে।
নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো—
✔ ১. বমি-বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে
লেবু, আমড়া, কাঁচা আম ইত্যাদি অনেক সময় মুড পরিবর্তন ও নসিয়া কমাতে সাহায্য করে।
✔ ২. হজমে সহায়ক
টক খাবারের অ্যাসিড পাকস্থলীর এনজাইম বাড়িয়ে হজমে সাহায্য করে।
✔ ৩. ভিটামিন C এর ভালো উৎস
যা—
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
-
আয়রন শোষণে সহায়তা করে
⚠ তবে যাদের সতর্ক থাকতে হবে
❌ ১. এসিডিটি বা গ্যাস থাকলে
টক খাবার—
-
বুক জ্বালা
-
অম্বল
-
অস্বস্তি
বাড়িয়ে দিতে পারে।
❌ ২. আলসার থাকলে
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া টক কম বা না খাওয়াই ভালো।
❌ ৩. বেশি লবণযুক্ত টক (আচার, ঝাল আমসত্ত্ব ইত্যাদি)
বেশি লবণ—
-
রক্তচাপ বাড়াতে
-
শরীরে পানি জমাতে
পারে, যা গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ।
❌ ৪. রাসায়নিক বা সংরক্ষিত আচার
এসব খাবারে—
-
কেমিক্যাল
-
কৃত্রিম রং
-
প্রিজারভেটিভ
থাকে, যা মা ও শিশুর জন্য অস্বাস্থ্যকর।
আরো পড়ুন: আফরোজা নামের অর্থ কি
⭐ কতটা টক খাওয়া নিরাপদ?
-
দিনে সামান্য পরিমাণ (যেমন ১–২ টুকরো আম, কিছু লেবুর রস)
-
বেশি ঝাল বা লবণযুক্ত না
-
খাবারের সাথে বা পরে খাওয়া ভালো
🥗 কোন কোন টক গর্ভাবস্থায় নিরাপদ
✔ লেবু
✔ কমলা
✔ মালটা
✔ তাজা কাঁচা
আম
(সীমিত)
✔ তাজা
আমড়া
✔ আনারস
(সীমিত এবং
প্রথম ৩ মাসে
সতর্ক)
আরো পড়ুন : ডাবের পানির উপকারিতা ও অপকারিতা
গর্ভাবস্থায় মাল্টা খাওয়া যাবে কি
হ্যাঁ,
গর্ভাবস্থায়
মাল্টা
খাওয়া
সম্পূর্ণ
নিরাপদ
এবং
খুবই
উপকারী।
মাল্টা
ভিটামিন,
মিনারেল
ও
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
সমৃদ্ধ,
যা
মা
ও
শিশুর
সুস্থতার
জন্য
দারুণ।
নীচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো
⭐ মাল্টা খেলে কী উপকার হয়?
✔ ১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
মাল্টায় প্রচুর ভিটামিন C থাকে, যা—
-
সর্দি-কাশি প্রতিরোধ
-
সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো
-
মা ও শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো
এতে সাহায্য করে।
✔ ২. আয়রন শোষণে সাহায্য করে
গর্ভাবস্থায়
রক্তস্বল্পতা
খুব
কমন।
ভিটামিন
C
খাবার
থেকে
আয়রন
শোষণ
বাড়ায়,
ফলে
রক্ত
কমার
ঝুঁকি
কমে।
✔ ৩. কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকারী
মাল্টায় থাকা ফাইবার—
-
পেট পরিষ্কার রাখে
-
কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়
-
হজমে সহায়তা করে
✔ ৪. পানিশূন্যতা প্রতিরোধ
মাল্টা জলসমৃদ্ধ, তাই শরীর হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।
✔ ৫. শিশুর জন্য উপকারী
মাল্টায় রয়েছে—
-
ফলিক অ্যাসিড
-
পটাশিয়াম
-
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
যা শিশুর—
-
মস্তিষ্ক
-
স্নায়ুতন্ত্র
-
শারীরিক বৃদ্ধি
উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
আরো পড়ুন : বাচ্চাদের জন্য তরমুজের উপকারিতা
⚠ কারা সতর্ক থাকবেন?
নিচের ক্ষেত্রে মাল্টা কম পরিমাণে বা সতর্কভাবে খেতে হবে—
❌ ১. যাদের এসিডিটি বা অম্বল বেশি
টক খাবার অম্বল বাড়াতে পারে।
❌ ২. ডায়াবেটিস থাকলে
মাল্টায় প্রাকৃতিক চিনি আছে, তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
❌ ৩. খুব বেশি খেলে
-
গ্যাস
-
ঢেঁকুর
-
পেট ফাঁপা
হতে পারে।
⭐ কতটা মাল্টা খাওয়া নিরাপদ?
-
দিনে ১টি মাল্টা বা ১ গ্লাস ফ্রেশ জুস
-
জুস করলে চিনি না দেওয়া ভালো
-
খাবারের পরে বা মাঝখানে খাওয়া উত্তম
🌿 কোন ধরনের মাল্টা এড়ানো উচিত?
-
রাসায়নিক বা ফরমালিনযুক্ত
-
অতিমিষ্ট বা চিনিযুক্ত জুস
-
সংরক্ষিত বা প্যাকেটজাত জুস
এসব মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর।

.jpg)
.jpg)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url