সারা গায়ে চুলকানি ঔষধ

সারা শরীরে চুলকানি এমন একটি বিরক্তিকর সমস্যা যা অনেকেরই জীবনের কোনো না কোনো সময় হয়। কখনও এটি ত্বকের শুষ্কতা বা অ্যালার্জির কারণে হয়, আবার কখনও এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ

সারা -গায়ে -চুলকানি -ঔষধ

অসুস্থতার ইঙ্গিত দেয়। অনেক সময় আমরা চুলকানিকে সামান্য বিষয় মনে করে অবহেলা করি, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এটি একজিমা, ছত্রাক সংক্রমণ কিংবা লিভারের সমস্যার মতো জটিল

 রোগের কারণ হতে পারে।তাই চুলকানির সঠিক কারণ জানা ও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লেখায় আমরা জানব — সারা গায়ে চুলকানির সম্ভাব্য কারণ, ঘরোয়া যত্ন, এবং কার্যকর কিছু ঔষধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

পেজ সূচিপএ : সারা গায়ে চুলকানি ঔষধ

🩺 সারা গায়ে চুলকানি হলে কী করবেন? 

সারা শরীরে চুলকানি একটি সাধারণ সমস্যা, যা অনেক সময় অ্যালার্জি, শুষ্ক ত্বক, বা ছত্রাক সংক্রমণের কারণে হতে পারে। তবে এটি লিভার, কিডনি বা থাইরয়েড সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে। সঠিক কারণ জানা ও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই মূল লক্ষ্য।

আরো পড়ুন : কলা খাওয়ার উপকারিতা


🌿 চুলকানির সাধারণ কারণ

  1. ত্বকের শুষ্কতা (Dry skin)

  2. অ্যালার্জি বা ধুলাবালি, খাবার, ওষুধে প্রতিক্রিয়া

  3. ছত্রাক সংক্রমণ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন

  4. একজিমা বা স্কিন ডিজিজ

  5. লিভার বা কিডনির সমস্যা


💊 ঘরোয়া ও চিকিৎসাগত সমাধান

🧴 বাহ্যিক যত্ন

  • গরম পানিতে গোসল না করে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।

  • ত্বক ময়েশ্চারাইজ রাখতে দিনে ২–৩ বার ভ্যাসলিন, গ্লিসারিন বা ময়েশ্চারাইজার লোশন ব্যবহার করুন।

  • পরিশুদ্ধ, ঢিলেঢালা, তুলার কাপড় পরুন।

💊 ওষুধ (ডাক্তারের পরামর্শে)

  • Cetirizine 10mg – রাতে ঘুমানোর আগে ১টি ট্যাবলেট।

  • Fexofenadine 120mg – দিনে ১ বার সকালে।

  • Calamine lotion – চুলকানি জায়গায় হালকা করে লাগান।

  • যদি ছত্রাকজনিত চুলকানি হয়, তবে Clotrimazole বা Ketoconazole ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।


⚠️ কখন ডাক্তার দেখাবেন

  • চুলকানি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে

  • ত্বকে ফুসকুড়ি, ঘা বা ফুসফুস দেখা দিলে

  • চুলকানির সঙ্গে জ্বর, চোখ-মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে


💡 পরামর্শ

সারা গায়ে চুলকানি কখনো কখনো শরীরের ভেতরের সমস্যার সংকেত হতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

চুলকানির ভালো মলম কোনটি জানুন ? 

➡️ ব্যবহারযোগ্য মলম:

  • Calamine Lotion – হালকা চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমাতে কার্যকর।

  • Soframycin Cream – হালকা ইনফেকশন থাকলে ভালো।

  • Hydrocortisone Cream (1%) – অ্যালার্জি বা ইনফ্লেমেশন কমায় (ডাক্তারের পরামর্শে)।

👉 ব্যবহার: দিনে ২ বার আক্রান্ত জায়গায় পাতলা করে লাগাতে হয়।


🌿 ২️⃣ ছত্রাকজনিত চুলকানি (Fungal Infection / দাদ জাতীয় চুলকানি)

➡️ ব্যবহারযোগ্য মলম:

  • Clotrimazole Cream (Canesten, Candid)

  • Ketoconazole Cream (Nizoral)

  • Luliconazole Cream (Lulibet, Lulican)

👉 ব্যবহার: দিনে ২ বার করে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হয়, জায়গাটা শুকনো রাখবেন।

আরো পড়ুন : রসুন খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা


🧬 ৩️⃣ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণজনিত চুলকানি

➡️ ব্যবহারযোগ্য মলম:

  • Fucidin Cream (Fusidic acid)

  • Mupirocin (Bactroban)

👉 ব্যবহার: দিনে ২–৩ বার আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হয় (শুধু সংক্রমণ থাকলে)।


💧 ৪️⃣ শুষ্ক ত্বকের কারণে চুলকানি

➡️ ব্যবহারযোগ্য মলম/লোশন:

  • Vaseline / Petroleum Jelly

  • Moisturizing Cream (Elovera, Cetaphil, Physiogel, Emollient lotion)

👉 ব্যবহার: প্রতিদিন গোসলের পর ও রাতে ঘুমানোর আগে লাগালে আরাম পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন : গ্রামীন এমবি চেক কোড ২০২৪

কি দিলে চুলকানি কমে জানুন ? 

🧴 ১. ত্বকের শুষ্কতা (Dry Skin)

লক্ষণ: শুষ্ক, ফাটা বা খসখসে ত্বক।
সমাধান:

  • নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন (যেমন ভ্যাসলিন, প্যারাসল, সেটাফিল, ইউসেরিন)।

  • গরম পানিতে নয়, হালকা গরম বা ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন।

  • সাবান কম ব্যবহার করুন — বিশেষ করে হারবাল বা ময়েশ্চারাইজিং সাবান ব্যবহার করুন।


🌿 ২. অ্যালার্জি বা ইনসেক্ট কামড় (Allergy / Insect bite)

সমাধান:

  • অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট (যেমন Cetirizine, Fexofenadine, Loratadine — ডাক্তারের পরামর্শে) খেতে পারেন।

  • ঠান্ডা পানি বা বরফ দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় চেপে রাখলে আরাম পাবেন।

  • হাইড্রোকর্টিসোন ক্রিম (Hydrocortisone 1%) লাগানো যেতে পারে — তবে বেশি দিন নয়, এবং ডাক্তারের পরামর্শে।


🧫 ৩. ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (যেমন দাদ, স্ক্যাবিস)

সমাধান:

  • এ ধরনের চুলকানি হলে সাধারণ ক্রিমে উপকার হবে না।

  • দাদ হলে অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম (যেমন Clotrimazole, Ketoconazole),

  • স্ক্যাবিস হলে Permethrin ক্রিম প্রয়োজন — সব সময় চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।


🩺 ৪. অন্য রোগ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

যদি চুলকানি দীর্ঘস্থায়ী হয় (২ সপ্তাহের বেশি) বা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে
👉 রক্ত, লিভার বা কিডনির সমস্যা আছে কিনা তা ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।


✅ ঘরোয়া উপায়ে সাময়িক আরাম:

  • ঠান্ডা পানির কাপড় দিয়ে চুলকানির জায়গায় চেপে রাখুন।

  • অ্যালোভেরা জেল লাগাতে পারেন।

  • ওটমিল বা বেকিং সোডা দিয়ে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে আরাম পাওয়া যায়।

  • ঢিলেঢালা ও কটনের কাপড় পরুন।

সারা -গায়ে -চুলকানি -ঔষধ

সারা শরীর চুলকায় কেন?

🧴 ১. ত্বকের সাধারণ কারণ

🔹 শুষ্ক ত্বক (Dry skin)

  • সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

  • বিশেষ করে শীতকালে বা অতিরিক্ত সাবান/গরম পানি ব্যবহারে হয়।
    লক্ষণ: ত্বক ফাটা, খসখসে, চুলকানো কিন্তু দানা বা র‍্যাশ নেই।
    সমাধান: নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার (ভ্যাসলিন, সেটাফিল, ইউসেরিন), হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল, সাবান কম ব্যবহার।


🧫 ২. ত্বকের সংক্রমণ বা অ্যালার্জি

🔹 ফাঙ্গাল ইনফেকশন (যেমন দাদ, স্ক্যাবিস)

  • চুলকানি রাতে বেশি হয়, বিশেষ করে হাত, পা, কোমর, আঙুলের ফাঁকে।

  • অন্যদেরও চুলকানি হতে পারে (সংক্রমণ ছড়ায়)।
    সমাধান: ডাক্তারের পরামর্শে Permethrin বা Clotrimazole জাতীয় ওষুধ।

🔹 অ্যালার্জি / চুলকানি র‍্যাশ (Urticaria)

  • হঠাৎ ফুলে ওঠা দাগ, জ্বালা, চুলকানি।
    সমাধান: অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট (যেমন Cetirizine, Fexofenadine) — চিকিৎসকের পরামর্শে।


🧍‍♂️ ৩. শরীরের ভেতরের রোগের কারণে

🔹 লিভারের সমস্যা (যেমন জন্ডিস, হেপাটাইটিস)

  • সারা শরীরে চুলকানি হয়, কিন্তু র‍্যাশ থাকে না।

  • ত্বক বা চোখ হলদেটে হয়ে যেতে পারে।

🔹 কিডনির সমস্যা

  • প্রস্রাব কম হয়, শরীর ফুলে যায়, চুলকানি বাড়ে।

🔹 ডায়াবেটিস

  • ত্বক শুষ্ক হয়, বারবার ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয়।

🔹 থাইরয়েড সমস্যা

  • ত্বক শুষ্ক ও চুলকানো হতে পারে।


💊 ৪. ওষুধ বা মানসিক কারণ

  • কিছু ওষুধ (অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথার ওষুধ ইত্যাদি) চুলকানি বাড়ায়।

  • মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থেকেও অনেক সময় শরীরে চুলকানি হয়, যদিও ত্বকে কিছু দেখা যায় না।


🩺 কি করবেন

  1. 🧼 ত্বক পরিষ্কার রাখুন, বেশি সাবান নয়।

  2. 🧴 ময়েশ্চারাইজার প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

  3. 🚫 নতুন প্রসাধনী, পারফিউম বা সাবান ব্যবহার বন্ধ রাখুন।

  4. 💊 অ্যান্টিহিস্টামিন (যেমন Cetirizine) খেতে পারেন – ডাক্তারের পরামর্শে।

  5. 🧪 যদি:

    • চুলকানি ২ সপ্তাহের বেশি থাকে,

    • ত্বকে কোনো র‍্যাশ না থেকেও চুলকায়,

    • বা রাতে বেশি চুলকায়,
      👉 তাহলে রক্ত, লিভার, কিডনি ও থাইরয়েড টেস্ট করানো জরুরি।

চুলকানির ঔষধের নাম স্কয়ার

1. Telfast® (Fexofenadine Hydrochloride)

  • কাজ: অ্যালার্জি, সারা শরীরের চুলকানি, Urticaria (হাইভস) এ ব্যবহৃত হয়।

  • ডোজ: সাধারণত দিনে ১বার (ডাক্তারের পরামর্শে)।

  • ঘুম আনে না।


2. Histacin® (Chlorpheniramine Maleate)

  • কাজ: সাধারণ অ্যালার্জি, ঠান্ডা, চুলকানি ইত্যাদিতে।

  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ঘুম পায়।

  • রাতে খাওয়া ভালো।


3. Cetirizine® (Brand name: Alerzin®, Square)

  • কাজ: চুলকানি, অ্যালার্জি, র‍্যাশ, ইনসেক্ট কামড়।

  • ঘুম কম আনে, দিনে বা রাতে খাওয়া যায়।


4. Ebast® (Ebastine)

  • নতুন প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিন, ঘুম আনে না।

  • দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জিতে ভালো কাজ করে।


🧴 চুলকানির জন্য স্কয়ারের ক্রিম / লোশন:

1. Clotrim® Cream (Clotrimazole 1%)

  • ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা দাদ জাতীয় চুলকানিতে ব্যবহৃত হয়।

2. Permite® Cream (Permethrin 5%)

  • স্ক্যাবিস (Scabies, গায়ে ঘা জাতীয় চুলকানি যা রাতে বাড়ে) এ ব্যবহৃত হয়।

3. Betnovate-N® Cream (Square license manufacture)

  • প্রদাহ ও অ্যালার্জি থেকে সৃষ্ট চুলকানিতে ব্যবহৃত হয় (শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে, বেশি দিন নয়)।


⚠️ সতর্কতা:

  • নিজের মতো করে ওষুধ না খাওয়া ভালো, বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম (যেমন Betnovate)।

  • যদি চুলকানি ২ সপ্তাহের বেশি থাকে, বা রাতে বেশি হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে রক্ত, লিভার, কিডনি টেস্ট করানো দরকার।

শরীরে গোটা ও চুলকানি ঔষধ

🩺 সম্ভাব্য কারণ ও তার উপযুক্ত ওষুধ (বাংলাদেশে পাওয়া যায়, স্কয়ারসহ)

🔹 ১. অ্যালার্জি বা চুলকানির র‍্যাশ (Urticaria / Allergy rash)

লক্ষণ: হঠাৎ দানা ওঠে, ফুলে যায়, চুলকায়, কিছু সময় পর দানা সরে যায়।
চিকিৎসা:

  • ট্যাবলেট:

    • Telfast® 120mg / 180mg (Fexofenadine) – দিনে ১ বার।

    • Alerzin® (Cetirizine) – রাতে ১টা।

  • সিরাপ (শিশুদের জন্য): Alerzin® Syrup।

  • ঘরে: ঠান্ডা পানি বা বরফ দিয়ে আক্রান্ত স্থানে চেপে রাখুন।


🔹 ২. ফাঙ্গাল ইনফেকশন / দাদ জাতীয় চুলকানি

লক্ষণ: গোলাকার দাগ, চারপাশে লাল, মাঝখান হালকা, চুলকানি।
চিকিৎসা:

  • ক্রিম:

    • Clotrim® (Clotrimazole 1%) – দিনে ২ বার লাগান।

    • Ketoconazole Cream (Ketonol®) – বিকল্প।

  • ট্যাবলেট (প্রয়োজনে): Itraconazole বা Fluconazole (শুধু ডাক্তারের পরামর্শে)।


🔹 ৩. স্ক্যাবিস (Scabies – গায়ে ছোট গোটা, রাতে বেশি চুলকানি)

লক্ষণ: ছোট ছোট দানা, আঙুলের ফাঁক, কবজি, কোমর, বুকে হয়; রাতে চুলকানি বেড়ে যায়।
চিকিৎসা:

  • ক্রিম:

    • Permite® (Permethrin 5%) – পুরো শরীরে (গলা থেকে পা পর্যন্ত) রাতে লাগিয়ে সকাল পর্যন্ত রেখে ধুয়ে ফেলুন।

    • পরিবারের সবাইকে একই রাতে ব্যবহার করতে হয়।

  • ট্যাবলেট:

    • Alerzin® বা Telfast® – চুলকানি কমানোর জন্য।

  • জামাকাপড়, বিছানার চাদর ভালোভাবে গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে।


🔹 ৪. ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়াল ফোঁড়া (Boil / Folliculitis)

লক্ষণ: ব্যথাযুক্ত পুঁজভরা দানা, লাল হয়ে ফুলে ওঠে।

আরো পড়ুন : ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

চিকিৎসা:

  • অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম:

    • Fusid® (Fusidic acid cream) – দিনে ২ বার লাগাতে হয়।

  • প্রয়োজনে ট্যাবলেট: Amoxicillin বা Cephalexin (ডাক্তারের পরামর্শে)।

সারা -গায়ে -চুলকানি -ঔষধ

সারা গায়ে চুলকানি ঔষধ ঘরোয়া উপায়

🧴 ১. ঠান্ডা পানি দিয়ে স্নান করুন

  • গরম পানি চুলকানি বাড়ায়।

  • দিনে ২ বার হালকা ঠান্ডা বা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন।

  • সাবান কম ব্যবহার করুন (বিশেষ করে ডিটারজেন্ট-যুক্ত বা শক্ত সাবান নয়)।


🌼 ২. নারকেল তেল বা জলপাই তেল

  • স্নানের পর পুরো শরীরে খাঁটি নারকেল তেল বা জলপাই তেল (olive oil) মেখে নিন।

  • ত্বক ময়েশ্চারাইজড থাকলে চুলকানি অনেক কমে যাবে।

  • বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে লাগালে বেশি উপকার পাবেন।


🍶 ৩. ওটমিল (Oatmeal) বাথ

  • আধা কাপ ওটমিল (চালকণার মতো দানা) গুঁড়ো করে হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে ১৫ মিনিট গোসল করুন।

  • এটি ত্বকের জ্বালা ও চুলকানি কমায় (বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত)।


🍋 ৪. লেবুর রস ও পানি

  • লেবুর রসে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক আছে।

  • ১ চা চামচ লেবুর রস ১ কাপ পানিতে মিশিয়ে তুলো দিয়ে চুলকানির জায়গায় লাগাতে পারেন।

  • জ্বালাপোড়া হলে বন্ধ করুন।


🌿 ৫. অ্যালোভেরা জেল

  • খাঁটি অ্যালোভেরা পাতা কেটে ভিতরের জেলটা লাগান।

  • এটি ত্বক ঠান্ডা করে, প্রদাহ কমায়, ও চুলকানি প্রশমিত করে।

  • প্রতিদিন ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।


🧂 ৬. বেকিং সোডা পেস্ট

  • ২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা ও সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট বানান।

  • চুলকানির জায়গায় ৫–১০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

  • এটি ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখে।


🌾 ৭. নিমপাতা সেদ্ধ পানি

  • এক মুঠো নিমপাতা পানিতে সেদ্ধ করুন, ঠান্ডা হলে সেই পানি দিয়ে গোসল করুন।

  • নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ চুলকানি কমাতে সাহায্য করে।


💧 সাধারণ পরামর্শ

  • বেশি ঘাম হলে বা গরমে কাজ করলে দিনে অন্তত ২ বার গোসল করুন।

  • কটনের ঢিলেঢালা কাপড় পরুন।

  • মশারি ব্যবহার করুন (অনেক সময় পোকা কামড়ের কারণেও চুলকানি হয়)।

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন (ত্বক শুষ্ক হলে চুলকানি বেড়ে যায়)।


⚠️ যদি চুলকানি:

  • ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়,

  • রাতে বেশি চুলকায়,

  • সারা শরীরে ছোট ছোট দানা ওঠে,
    👉 তাহলে এটা স্ক্যাবিস, ফাঙ্গাস, বা লিভারের সমস্যা হতে পারে — তখন ডাক্তার দেখানো দরকার।

🩵 শেষ কথা:

সারা শরীরে চুলকানি একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা, যা শুষ্ক ত্বক, অ্যালার্জি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা শরীরের ভেতরের অসুখের কারণেও হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘরোয়া যত্ন—যেমন ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল, অ্যালোভেরা জেল, নিমপাতার পানি, ও নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার—

চুলকানি কমাতে দারুণ কার্যকর। তবে যদি চুলকানি দীর্ঘস্থায়ী হয়, রাতে বেশি বাড়ে, বা শরীরে দানা ওঠে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের ত্বককে পরিষ্কার, আর্দ্র ও সুরক্ষিত রাখাই হলো চুলকানিমুক্ত জীবনের মূল চাবিকাঠি। 🌿✨

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url