বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে

 বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়া অনেক মানুষের স্বপ্ন। কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, কেউ চাকরি বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে, আবার কেউ ভ্রমণ বা পরিবার পরিদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী হন। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে মোট কত টাকা লাগে? এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ খরচ নির্ভর করে ভিসার ধরন, বিমান ভাড়া, থাকার ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার মান, শহর নির্বাচন এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনার উপর।

বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে বিমান ভাড়া, ভিসা প্রসেসিং এবং প্রাথমিক সেটেলমেন্ট খরচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেউ যদি স্টুডেন্ট ভিসায় যান, তাহলে খরচ একরকম হবে। আবার টুরিস্ট ভিসা, কাজের ভিসা বা ইমিগ্রেশন ভিসার ক্ষেত্রে খরচ ভিন্ন হবে।

এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কী কী খরচ হয়, কোন খাতে কত টাকা লাগতে পারে এবং কীভাবে পরিকল্পনা করলে খরচ কমানো সম্ভব। পুরো লেখাটি সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে যাতে নতুন কেউও বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন।

আমেরিকা যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ও খরচের পার্থক্য

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার আগে প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে আপনি কোন উদ্দেশ্যে যেতে চান। কারণ উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভিসা, কাগজপত্র এবং মোট বাজেট নির্ধারিত হয়।

১. স্টুডেন্ট ভিসা

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা যাওয়া। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেলে প্রথম বছরে সাধারণত ১৫ লাখ টাকা থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্য বীমা এবং থাকার খরচ এতে যুক্ত হয়।

২. টুরিস্ট ভিসা

যারা ঘুরতে বা আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা করতে যেতে চান, তাদের জন্য টুরিস্ট ভিসা প্রযোজ্য। এই ক্ষেত্রে সাধারণত ৩ লাখ টাকা থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে খরচ হতে পারে। তবে এটি ভ্রমণের সময়কাল এবং জীবনযাত্রার উপর নির্ভর করে বাড়তে পারে।

৩. চাকরির ভিসা

যদি কোনো কোম্পানি স্পন্সর করে আমেরিকায় চাকরির সুযোগ দেয়, তাহলে অনেক খরচ প্রতিষ্ঠান বহন করতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি, মেডিকেল, ডকুমেন্টেশন এবং ভ্রমণের জন্য কয়েক লাখ টাকা লাগতে পারে।

৪. ইমিগ্রেশন বা গ্রিন কার্ড

স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে গেলে খরচ আরও বেশি হতে পারে। কাগজপত্র, আইনজীবী, মেডিকেল এবং প্রসেসিং ফি মিলিয়ে ১০ লাখ টাকার বেশি খরচ হতে পারে।

পাসপোর্ট তৈরির খরচ

আমেরিকা যাওয়ার প্রথম ধাপ হলো বৈধ পাসপোর্ট তৈরি করা। বাংলাদেশে বর্তমানে ই-পাসপোর্ট চালু রয়েছে।

সাধারণ ডেলিভারির জন্য ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লাগে। জরুরি ডেলিভারিতে খরচ আরও বাড়তে পারে। ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করলে খরচ তুলনামূলক বেশি হয়।

পাসপোর্ট তৈরির সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ছবি এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হয়। ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন জটিল হতে পারে।

আমেরিকার ভিসা ফি কত

আমেরিকার ভিসা ফি ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

টুরিস্ট ও স্টুডেন্ট ভিসা ফি

সাধারণত টুরিস্ট এবং স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ১৮৫ মার্কিন ডলার ফি দিতে হয়। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে, যা ডলারের রেট অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

SEVIS ফি

স্টুডেন্টদের জন্য অতিরিক্ত SEVIS ফি দিতে হয়। এই ফি সাধারণত ৩৫০ ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি।

ভিসা ইন্টারভিউ ও ডকুমেন্ট খরচ

অনেকেই ভিসা প্রস্তুতির জন্য কোচিং, কনসালটেন্সি বা ডকুমেন্ট অনুবাদ করান। এতে অতিরিক্ত ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক সক্ষমতাআমেরিকার ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্টুডেন্ট এবং টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে তার পর্যাপ্ত অর্থ আছে।স্টুডেন্টদের সাধারণত প্রথম বছরের টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার খরচ মিলিয়ে ব্যাংকে ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেখাতে হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে এই পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে। টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যালেন্স কম হলেও নিয়মিত আয় এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা দেখানো গুরুত্বপূর্ণ।

বিমান ভাড়ার খরচ

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার সবচেয়ে বড় খরচগুলোর একটি হলো বিমান ভাড়া। কোন সময়ে টিকিট কাটা হচ্ছে, কোন এয়ারলাইন্স ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কোন শহরে যাওয়া হচ্ছে— এসবের উপর ভাড়া নির্ভর করে। সাধারণত ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, টেক্সাস বা ক্যালিফোর্নিয়া যেতে বিমান

 ভাড়া ১ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। সিজনের সময় বা শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটলে ভাড়া আরও বেড়ে যায়। যদি আগে থেকে পরিকল্পনা করে অফ-সিজনে টিকিট কাটা যায়, তাহলে খরচ অনেক কমানো সম্ভব। অনেক শিক্ষার্থী ডিসকাউন্ট টিকিটও পেয়ে থাকেন।

মেডিকেল পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য বীমা

অনেক ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে মেডিকেল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হয়। এতে কয়েক হাজার টাকা থেকে কয়েক দশ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে স্টুডেন্টদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকায় চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক করে থাকে। বছরে স্বাস্থ্য বীমার জন্য ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

আমেরিকায় থাকার খরচআমেরিকায় গিয়ে সবচেয়ে বড় মাসিক খরচ হলো থাকার ব্যবস্থা। কোন শহরে থাকবেন তার উপর খরচ নির্ভর করে। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা বোস্টনের মতো শহরে খরচ বেশি। আবার ছোট শহরে তুলনামূলক কম।বাসা ভাড়াএকটি শেয়ারড রুমে থাকতে মাসে ৩০০ থেকে ৮০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। একা অ্যাপার্টমেন্ট নিলে আরও বেশি লাগবে।

খাবারের খরচনিজে রান্না করলে খরচ অনেক কম হয়। সাধারণত মাসে ২০০ থেকে ৫০০ ডলার খাবারের জন্য খরচ হতে পারে। বাইরে বেশি খেলে খরচ বেড়ে যায়।যাতায়াত খরচট্রেন, বাস বা সাবওয়ে ব্যবহার করলে মাসে ৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বড় শহরে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট উন্নত হওয়ায় অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন না।

শিক্ষার্থীদের মোট সম্ভাব্য খরচ

বাংলাদেশ থেকে একজন শিক্ষার্থী যদি আমেরিকায় পড়তে যান, তাহলে সাধারণত নিচের খরচগুলো হয়:

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ফি  IELTS বা TOEFL পরীক্ষা ভিসা ফি SEVIS ফি ব্যাংক স্টেটমেন্ট বিমান ভাড়া প্রথম সেমিস্টারের টিউশন ফি থাকার খরচ স্বাস্থ্য বীমা সব মিলিয়ে প্রথম বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তবে স্কলারশিপ পেলে খরচ অনেক কমে যায়।

স্কলারশিপ পেলে কত খরচ কমেঅনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় যান। ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলে টিউশন ফি, স্বাস্থ্য বীমা এবং কখনও কখনও থাকার খরচও বিশ্ববিদ্যালয় বহন করে। এই ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর প্রধান খরচ হয় ভিসা, বিমান ভাড়া এবং প্রাথমিক সেটেলমেন্ট। ফলে মোট খরচ ২ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকার মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য ভালো ফলাফল, ইংরেজি দক্ষতা এবং শক্তিশালী আবেদনপত্র গুরুত্বপূর্ণ

টুরিস্ট হিসেবে গেলে কত খরচ হতে পারে

যদি কেউ শুধুমাত্র ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আমেরিকা যেতে চান, তাহলে খরচ কিছুটা ভিন্ন হবে। সাধারণত নিচের খরচগুলো থাকে:ভিসা ফি পাসপোর্ট বিমান ভাড়া হোটেল বা থাকার ব্যবস্থা খাবার স্থানীয় যাতায়াত ভ্রমণ বীমা দুই সপ্তাহের একটি সাধারণ ভ্রমণের জন্য ৪ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিলাসবহুল ভ্রমণে এই খরচ আরও বেশি হতে পারে।

চাকরির উদ্দেশ্যে গেলে কী ধরনের খরচ হয় যারা চাকরির জন্য আমেরিকায় যান, তাদের অনেক সময় কোম্পানি স্পন্সর করে। তবে চাকরি পাওয়ার আগে দক্ষতা অর্জন, পরীক্ষার ফি, ডকুমেন্ট প্রস্তুতি এবং অন্যান্য খরচ থাকতে পারে। বিশেষ করে আইটি, নার্সিং এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় অনেক বাংলাদেশি কাজের সুযোগ পান। চাকরি নিশ্চিত হলে অনেক ক্ষেত্রে বিমান ভাড়া এবং ভিসা প্রসেসিং খরচ কোম্পানি বহন করে থাকে।

তবে ব্যক্তিগত প্রস্তুতির জন্য ২ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।আমেরিকায় পৌঁছানোর পর প্রাথমিক খরচ অনেকে মনে করেন শুধু আমেরিকায় পৌঁছালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে পৌঁছানোর পরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খরচ থাকে। ডিপোজিট বাসা ভাড়া নিতে গেলে অনেক সময় এক বা দুই মাসের অগ্রিম জমা দিতে হয়।

মোবাইল ও ইন্টারনেট নতুন সিম কার্ড এবং ইন্টারনেট সংযোগ নিতে খরচ হয়। আসবাবপত্র ও দৈনন্দিন জিনিস নতুন বাসায় উঠলে বিছানা, রান্নার জিনিসপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী

 কিনতে হয়। এই প্রাথমিক খরচ মিলিয়ে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত লাগতে পারে। খরচ কমানোর উপায় বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার খরচ অনেক হলেও সঠিক পরিকল্পনা করলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।আগে থেকে পরিকল্পনা করুন

শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলে বিমান ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ বেড়ে যায়। আগে থেকে পরিকল্পনা করলে কম খরচে অনেক কিছু করা যায়। স্কলারশিপ খুঁজুনশিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ সবচেয়ে বড় সুযোগ। ভালোভাবে গবেষণা করলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বা আংশিক স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব।

শেয়ারড বাসায় থাকুনপ্রথম দিকে একা থাকার বদলে শেয়ারড বাসায় থাকলে খরচ কমে যায়। নিজে রান্না করুন বাইরের খাবার খাওয়ার বদলে নিজে রান্না করলে মাসিক খরচ অনেক কম হয় অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলুন প্রথম দিকে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কম করলে সঞ্চয় করা সহজ হয়।

বাংলাদেশিদের জন্য জনপ্রিয় শহর আমেরিকায় কিছু শহরে বাংলাদেশিদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এসব শহরে নতুনদের মানিয়ে নিতে সুবিধা হয়। নিউইয়র্ক বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় কমিউনিটি নিউইয়র্কে রয়েছে। এখানে হালাল খাবার, বাংলা দোকান এবং পরিচিত পরিবেশ সহজে পাওয়া যায়।

টেক্সাস টেক্সাসে জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক কম। চাকরির সুযোগও ভালো। ক্যালিফোর্নিয়া প্রযুক্তি খাতের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া বিখ্যাত। তবে এখানে জীবনযাত্রার খরচ অনেক বেশি। মিশিগান অনেক শিক্ষার্থী এবং পরিবার মিশিগানে বসবাস করেন। তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ এবং কম খরচের কারণে এটি জনপ্রিয়।

আমেরিকায় পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ স্টুডেন্ট ভিসায় যাওয়া অনেক শিক্ষার্থী পার্ট-টাইম কাজ করেন। এতে নিজেদের খরচ কিছুটা চালানো সম্ভব হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বা অনুমোদিত স্থানে কাজ করে মাসে কয়েকশ ডলার আয় করা যায়। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ডলার রেটের প্রভাব বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার খরচের উপর ডলারের রেট বড় প্রভাব ফেলে। ডলারের দাম বাড়লে ভিসা ফি, টিউশন ফি এবং বিমান ভাড়ার খরচও বেড়ে যায়। তাই যারা ভবিষ্যতে আমেরিকা যেতে চান, তাদের আগে থেকেই সঞ্চয় পরিকল্পনা করা উচিত। প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার

 উপায় আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্নকে কেন্দ্র করে অনেক প্রতারক সক্রিয় থাকে। অনেকেই ভুয়া ভিসা, ভুয়া চাকরি বা নকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করে। তাই কোনো এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে তাদের বৈধতা যাচাই করা জরুরি। কখনও অগ্রিম বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার আগে সব তথ্য নিশ্চিত হওয়া উচিত।

সরকারি ওয়েবসাইট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।আমেরিকায় জীবনযাত্রা কেমন আমেরিকায় জীবনযাত্রা অনেক উন্নত হলেও খরচও বেশি। সময়ের মূল্য সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ সাধারণত খুব ব্যস্ত জীবনযাপন করে। তবে পরিশ্রম করলে

 উন্নতির সুযোগও অনেক বেশি। ভালো শিক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশের কারণে অনেক বাংলাদেশি সেখানে সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। পরিবার নিয়ে গেলে অতিরিক্ত খরচযদি পরিবার নিয়ে আমেরিকা যেতে চান, তাহলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। স্ত্রী বা সন্তানদের জন্য আলাদা ভিসা, বিমান ভাড়া এবং থাকার খরচ যোগ হয়।

বিশেষ করে সন্তানদের স্কুল এবং স্বাস্থ্য বীমার জন্য অতিরিক্ত বাজেট রাখতে হয়। তাই পরিবার নিয়ে যাওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা করা জরুরি।দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বঅনেকেই

 শুধুমাত্র ভিসা পাওয়া পর্যন্ত চিন্তা করেন। কিন্তু আমেরিকায় সফল হতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। সেখানে গিয়ে কীভাবে পড়াশোনা, চাকরি এবং জীবনযাত্রা পরিচালনা করবেন তা আগে থেকেই পরিকল্পন

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত সময় লাগে জানুন 

বাংলাদেশ এবং আমেরিকার মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি। ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের দূরত্ব প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। আবার ক্যালিফোর্নিয়া বা টেক্সাসে গেলে দূরত্ব আরও বেড়ে যায়।

এই দীর্ঘ দূরত্বের কারণেই আমেরিকা যেতে অনেক সময় লাগে। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ১৮ ঘণ্টা থেকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে ট্রানজিট বেশি হলে সময় আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে সাধারণত নিচের মতো সময় লাগতে পারে:

নিউইয়র্ক যেতে: ২০ থেকে ২৫ ঘণ্টা

ওয়াশিংটন যেতে: ২০ থেকে ২৬ ঘণ্টা

টেক্সাস যেতে: ২২ থেকে ৩০ ঘণ্টা

ক্যালিফোর্নিয়া যেতে: ২৪ থেকে ৩২ ঘণ্টা

এগুলো আনুমানিক সময়। ফ্লাইট এবং ট্রানজিট অনুযায়ী কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
কোন এয়ারলাইন্সে কম সময় লাগে
কিছু জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তুলনামূলক দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণ সুবিধা দেয়। যেমন:

Qatar Airways

Emirates

Turkish Airlines

Etihad Airways

Singapore Airlines

এই এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত কম সময়ে ভালো ট্রানজিট সুবিধা দেয়। ফলে যাত্রা তুলনামূলক সহজ হয়।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা কত কিলোমিটার

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার দূরত্ব অনেক বেশি, কারণ দুটি দেশ ভিন্ন মহাদেশে অবস্থিত। সাধারণভাবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে আমেরিকার বিভিন্ন শহরের দূরত্ব প্রায় ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে হয়ে থাকে। তবে আপনি আমেরিকার কোন শহরে যাচ্ছেন তার উপর এই দূরত্ব কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের দূরত্ব প্রায় ১২,৫০০ কিলোমিটার। আবার ক্যালিফোর্নিয়া বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরে যেতে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পথ অতিক্রম করতে হয়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ডিসি বা টেক্সাসের দূরত্বও প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় বর্তমানে সরাসরি ফ্লাইট নেই। তাই যাত্রীদের সাধারণত দুবাই, দোহা, ইস্তাম্বুল বা অন্য কোনো দেশে ট্রানজিট করতে হয়। এই কারণে যাত্রার সময়ও বেশি লাগে। সাধারণত বিমানযোগে আমেরিকা যেতে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

আমেরিকা পৃথিবীর অন্যতম বড় দেশ হওয়ায় একেক অঙ্গরাজ্যের দূরত্ব একেক রকম। তাই ভ্রমণের আগে গন্তব্য শহরের দূরত্ব ও ফ্লাইট রুট সম্পর্কে ধারণা রাখা ভালো। সঠিক পরিকল্পনা করলে দীর্ঘ এই ভ্রমণ অনেক সহজ ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে।

ভারত থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে

ভারত থেকে আমেরিকা যেতে মোট কত টাকা লাগবে তা নির্ভর করে ভিসার ধরন, বিমান ভাড়া, থাকার খরচ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যের উপর। কেউ যদি স্টুডেন্ট ভিসায় যান, তাহলে খরচ একরকম হবে, আবার টুরিস্ট বা চাকরির ভিসায় গেলে খরচ ভিন্ন হতে পারে।

সাধারণভাবে ভারত থেকে আমেরিকা যেতে বিমান ভাড়া প্রায় ৬০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ভারতীয় রুপির মধ্যে হতে পারে। সিজন ও এয়ারলাইন্স অনুযায়ী ভাড়া কম বা বেশি হয়। এছাড়া আমেরিকার ভিসা ফি সাধারণত ১৮৫ ডলারের কাছাকাছি, যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার রুপি হতে পারে।

স্টুডেন্ট ভিসায় গেলে অতিরিক্তভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, স্বাস্থ্য বীমা এবং থাকার খরচ যোগ হয়। এই ক্ষেত্রে প্রথম বছরে মোট খরচ প্রায় ১৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপি পর্যন্ত হতে পারে। তবে স্কলারশিপ পেলে খরচ অনেক কমে যায়।

টুরিস্ট হিসেবে গেলে ৩ লাখ থেকে ৮ লাখ রুপির মধ্যে একটি সাধারণ বাজেটে আমেরিকা ভ্রমণ করা সম্ভব। এতে বিমান ভাড়া, হোটেল, খাবার এবং স্থানীয় যাতায়াতের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

সঠিক পরিকল্পনা এবং আগে থেকে টিকিট বুকিং করলে খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার উপায় 

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য প্রথমে একজন ব্যক্তিকে তার যাওয়ার উদ্দেশ্য ঠিক করতে হয়। কারণ পড়াশোনা, চাকরি, ভ্রমণ বা পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য ভিসার ধরন আলাদা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্টুডেন্ট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা এবং চাকরির ভিসায় আমেরিকা যান।

স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে হলে প্রথমে আমেরিকার কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন গ্রহণ হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার আসে। এরপর ভিসার জন্য আবেদন, ইন্টারভিউ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে ভিসা অনুমোদনের পর আমেরিকায় পড়াশোনা করতে যাওয়া যায়।

চাকরির মাধ্যমে আমেরিকা যেতে হলে সাধারণত কোনো কোম্পানির চাকরির অফার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ লোকদের চাহিদা বেশি। কোম্পানি স্পন্সর করলে ভিসা পাওয়ার সুযোগ বেড়ে যায়।

অনেকে আবার টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকা যান ঘুরতে বা আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা করতে। এই ক্ষেত্রে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পাসপোর্ট এবং ভ্রমণের কারণ দেখাতে হয়। ভিসা ইন্টারভিউতে সঠিক তথ্য দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা যাওয়ার জন্য বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা, আর্থিক সক্ষমতা এবং সঠিক কাগজপত্র সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনা এবং বৈধ উপায় অনুসরণ করলে বাংলাদেশ থেকে সহজেই আমেরিকা যাওয়া সম্ভব।

উপসংহার

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে সাধারণত ১৮ ঘণ্টা থেকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। তবে ট্রানজিট, এয়ারলাইন্স এবং গন্তব্য শহরের উপর এই সময় কম বা বেশি হতে পারে। যেহেতু সরাসরি ফ্লাইট নেই, তাই মাঝপথে এক বা একাধিক দেশে যাত্রাবিরতি করতে হয়।

সঠিক পরিকল্পনা, ভালো এয়ারলাইন্স নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলে দীর্ঘ এই ভ্রমণ অনেক সহজ ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। আমেরিকা যাওয়ার আগে যাত্রার সময় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে পুরো ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক হয়।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url