মোবাইল স্লো হলে করণীয়
বর্তমান যুগে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যোগাযোগ, শিক্ষা, বিনোদন, ব্যবসা কিংবা অনলাইন আয়ের মতো বিভিন্ন কাজে আমরা প্রতিনিয়ত মোবাইল ব্যবহার করি।
কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, নতুন অবস্থায় দ্রুত কাজ করা মোবাইল কিছুদিন ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে স্লো হয়ে যায়। অ্যাপ খুলতে বেশি সময় লাগে, গেম খেলার সময় ল্যাগ করে, ফোন হ্যাং হয়ে যায় কিংবা স্ক্রিন টাচ করার পরও দ্রুত সাড়া দেয় না। এমন সমস্যার কারণে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তির শেষ
থাকে না। সুখবর হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোবাইল স্লো হয়ে যাওয়ার সমস্যা সহজ কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করেই সমাধান করা সম্ভব। সঠিকভাবে ফোনের স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ অপসারণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মোবাইলকে আগের মতো দ্রুত করা যায়। এই আর্টিকেলে মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ এবং করণীয় বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
পেজ সূচিপএ : মোবাইল স্লো হলে করণীয়
মোবাইল স্লো হওয়ার প্রধান কারণ
মোবাইল স্লো হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণত অতিরিক্ত অ্যাপ ইনস্টল করা, স্টোরেজ ভরে যাওয়া, পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার, ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক অ্যাপ চালু থাকা এর অন্যতম কারণ। যখন ফোনের র্যাম এবং স্টোরেজের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তখন ডিভাইস স্বাভাবিক গতিতে কাজ করতে পারে না।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় ক্যাশ ফাইল জমতে থাকে। এসব ফাইল ফোনের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন অ্যাপ ধীরগতির হয়ে যায়।
মোবাইল রিস্টার্ট করুন
অনেকেই দিনের পর দিন মোবাইল বন্ধ বা রিস্টার্ট করেন না। ফলে ফোনের র্যামে অপ্রয়োজনীয় প্রসেস জমে যায়। একটি সাধারণ রিস্টার্ট অনেক সময় মোবাইলের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং ডিভাইস নতুন করে কাজ শুরু করে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করুন
মোবাইলে এমন অনেক অ্যাপ থাকে যা আমরা খুব কম ব্যবহার করি অথবা একেবারেই ব্যবহার করি না। এসব অ্যাপ স্টোরেজ দখল করার পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাটা ও র্যাম ব্যবহার করতে পারে।
সেটিংস থেকে ইনস্টল করা অ্যাপগুলো পর্যালোচনা করুন এবং যেসব অ্যাপের প্রয়োজন নেই সেগুলো আনইনস্টল করে দিন। এতে ফোনের স্টোরেজ খালি হবে এবং পারফরম্যান্স উন্নত হবে।
স্টোরেজ খালি রাখুন
স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ হয়ে গেলে মোবাইলের গতি কমে যায়। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পর্যাপ্ত খালি স্টোরেজ না থাকলে সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
ফোনের মোট স্টোরেজের অন্তত ১৫% থেকে ২০% খালি রাখার চেষ্টা করুন। অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, ডাউনলোড ফাইল এবং ডকুমেন্ট মুছে ফেলুন অথবা ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করুন।
ক্যাশ ফাইল পরিষ্কার করুন
প্রতিটি অ্যাপ ব্যবহারের সময় কিছু অস্থায়ী ফাইল তৈরি হয়, যাকে ক্যাশ ফাইল বলা হয়। সময়ের সাথে সাথে এসব ফাইলের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায় এবং ফোন ধীর হয়ে যেতে পারে।সেটিংস থেকে Storage বা Apps অপশনে গিয়ে নিয়মিত ক্যাশ ফাইল পরিষ্কার করুন। তবে গুরুত্বপূর্ণ ডাটা মুছে ফেলার আগে সতর্ক থাকুন।
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে। এসব অ্যাপ র্যাম ব্যবহার করে এবং ব্যাটারিও দ্রুত শেষ করে।
ফোনের সেটিংস থেকে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো বন্ধ করুন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া এবং গেমিং অ্যাপগুলো বেশি রিসোর্স ব্যবহার করে।
সফটওয়্যার আপডেট করুন
ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট করা জরুরি। সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে বাগ ফিক্স, নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং পারফরম্যান্স অপ্টিমাইজেশন করা হয়।
যদি আপনার ফোনে নতুন আপডেট উপলব্ধ থাকে, তাহলে দ্রুত আপডেট ইনস্টল করুন।
অ্যানিমেশন কমিয়ে দিন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিভিন্ন ধরনের অ্যানিমেশন ব্যবহার করা হয়। কম ক্ষমতাসম্পন্ন ফোনে এসব অ্যানিমেশন ফোনকে ধীর করে দিতে পারে।
Developer Options থেকে Window Animation Scale, Transition Animation Scale এবং Animator Duration Scale কমিয়ে দিলে ফোন কিছুটা দ্রুত অনুভূত হবে।
ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার স্ক্যান করুন
অনিরাপদ ওয়েবসাইট বা অজানা উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলে ফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে ফোন স্লো হওয়া, বিজ্ঞাপন দেখানো এবং ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করে ফোন স্ক্যান করুন এবং সন্দেহজনক অ্যাপ মুছে ফেলুন।
উইজেট কম ব্যবহার করুন
হোম স্ক্রিনে অতিরিক্ত উইজেট ব্যবহার করলে ফোনের র্যামের উপর চাপ পড়ে। আবহাওয়া, নিউজ, ঘড়ি বা অন্যান্য লাইভ উইজেট সবসময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে।
যেসব উইজেটের প্রয়োজন নেই সেগুলো সরিয়ে দিন।
হালকা অ্যাপ ব্যবহার করুন
অনেক জনপ্রিয় অ্যাপের Lite সংস্করণ রয়েছে। যেমন Facebook Lite, Messenger Lite ইত্যাদি।
কম র্যাম ও কম স্টোরেজের ফোনে এসব Lite অ্যাপ ব্যবহার করলে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যায়।
SD Card ব্যবহার করুন
যদি আপনার ফোনে মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা থাকে, তাহলে ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য বড় ফাইল SD Card-এ সংরক্ষণ করতে পারেন।
এর ফলে ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ খালি থাকবে এবং ডিভাইস দ্রুত কাজ করবে।
অটো-সিঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করুন
অনেক অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাটা সিঙ্ক করে। এতে ইন্টারনেট এবং প্রসেসর উভয়ের উপর চাপ পড়ে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের Auto Sync বন্ধ করে দিন। এতে ফোনের গতি কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
ফ্যাক্টরি রিসেট করুন
উপরের সব পদ্ধতি অনুসরণ করার পরও যদি ফোন খুব স্লো থাকে, তাহলে Factory Reset একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
তবে রিসেট করার আগে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও, কন্টাক্ট এবং ডকুমেন্ট ব্যাকআপ নিয়ে রাখুন। কারণ রিসেট করলে ফোনের সমস্ত ডাটা মুছে যাবে।
নতুন ফোন কেনার আগে যা ভাববেন
অনেক সময় পুরোনো এবং কম স্পেসিফিকেশনের ফোনে আধুনিক অ্যাপ চালানোর কারণে ফোন স্লো হয়ে যায়। যদি ফোনের বয়স অনেক বেশি হয় এবং নিয়মিত সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে নতুন ফোন কেনার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
নতুন ফোন কেনার সময় কমপক্ষে ৬ জিবি বা ৮ জিবি র্যাম এবং পর্যাপ্ত স্টোরেজযুক্ত ডিভাইস নির্বাচন করা ভালো।
- মোবাইল দ্রুত রাখার অতিরিক্ত টিপস
- অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
- নিয়মিত ফোন রিস্টার্ট করুন।
- শুধুমাত্র বিশ্বস্ত অ্যাপ ইনস্টল করুন।
- পর্যাপ্ত খালি স্টোরেজ রাখুন।
- পুরোনো ও অব্যবহৃত ফাইল মুছে ফেলুন।
- অপ্রয়োজনীয় লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করবেন না।
- ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা সীমিত রাখুন।
- নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করুন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url